পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৭৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শান্তিপৰ্ব্ব । ] - کمے اس سے কালে যাহা করে তাহ কে খণ্ডিতে পারে । অন্ন বস্ত্র আদি নানা দিল ব্রাহ্মণেরে ॥ তাহা পেয়ে সত্বরে চলিল নিজ ঘরে । ক্রোধচিত্তে নৃপতি চলিল অন্তঃপুরে ॥ এই হেতু মহাপাপ ফলিল রাজনে । কতদিনে নৃপতি দেখিল পুষ্পবনে ॥ প্রতিদিন আলি পুষ্প গন্ধৰ্ব্বে হরয়। ক্রোধচিত্ত নরবর পুষ্প নাহি পায় ॥ ভাবিয়া ভূপতি তবে রক্ষক রাখিল । কোন জন তুলে পুষ্প লক্ষিতে নারিল ॥ মনুষ্যের শক্তি নহে জানিল কারণে । আপনি রহিল রাজা কুসুম রক্ষণে ॥ পুষ্প তুলিবারে এল গন্ধৰ্ব্বের পতি । পুষ্পবনে অষ্ণুষ্টি বরিষয়ে অতি ॥ অন্নবৃষ্টি দের্থি হ’ল সচিন্তিত মন । সেই রাত্রি রহিলেক জানিতে কারণ ॥ প্রাতঃকালে নৃপতি দেখিল গন্ধৰ্ব্বেরে। নিকটে আসিয়া রাজা জিজ্ঞাসিল তারে ॥ কি নাম ধরহ তুমি কোথায় বসতি । কোন হেতু আলি পুষ্প তোল নিতি নিতি ॥ আমারে সন্ত্রম কিছু নাহি তোর মনে । আজি সে উচিত শাস্তি পাবে মম স্থানে ॥ গন্ধৰ্ব্ব বলিল মম স্বগেতে বসতি । পুষ্পধর নাম মম বিদ্যাধর জাতি ॥ সুবেশ করিবে যত বিদ্যাধরীগণ । , এই হেতু পুষ্প আমি করি যে হরণ ॥ আজি হৈতে মিত্ৰ তুমি হইলে আমার । কোন কাৰ্য্য সাধি দিব কহত তোমার ॥ কিন্তু এক সবিস্ময় হৈল মম মনে । নিত্য নিত্য পুষ্প হরি আসিয়া কাননে ॥ এক অপরূপ বড় দেখি হে রাজন । কালি হৈতে অন্ন কেন হয় বরিষণ ॥ এখনও হয় এই বনে । । রাত্রি বঞ্চিলাম আমি জানিতে কারণে ॥ হেতু যদি জান রাজা কহিবে আমারে । । এই শুনি নরপতি কহিছে তাহারে ॥ হলিত স্বভগসৌম্যং দণ্ডপাশিং হবেশং ११७ কোথা অম্লবৃষ্টি হয় না পাই দেখিতে । মিথ্যা কথা বলি কেন ভাগুও আমাতে ॥ বিদ্যাধর বলে মিথ্যা হইবে কেমনে । দিব্যচক্ষু দিব ভূমি দেখহ নয়নে ॥ এত শুনি দিব্যচক্ষে চায় নরনাথ । অন্ন বরিষণ দেখে করি দৃষ্টিপাত ॥ পূর্বের কারণ তার হইল স্মরণ । গন্ধৰ্ব্ব চাহিয়া বলে শুন বিবরণ ॥ এককালে দৈবে আমি পিতৃশ্ৰাদ্ধ দিনে । অন্ন বস্ত্র আদি দান দিলাম ব্রাহ্মণে ॥ সেই হৈতে অন্নবৃষ্টি হয়ত কাননে । যাহা দিই পাই তাহা এ নহে এড়ানে ॥ তারপর বিদ্যাধর শুনহ এক্ষণে । যে কালেতে অন্নদান দিলাম ব্রাহ্মণে ॥ ক্রোধরাপে ব্রাহ্মণেরে দিনু অন্নদশন। এ পাপে নরক হৈতে নাহিক এড়ান ॥ এক নিবেদন করি শুনহ আমার । এ পাপে যেমতে তরি কহিবা প্রকার ॥ এত শুনি বিদ্যাধর গেল হরপুরে । কহিল রাজার কথা ইন্দ্রের গোচরে ॥ শুনিয়া হাসিয়া ইন্দ্র বলিল বচন । যত পুণ্য করিল সে না হয় কখন ॥ পুণ্যফলে স্বগেতে আসিবে মতিমান। তার তরে আগে হৈতে করেছি উদ্যান ॥ স্থবৰ্ণ প্রাচীর দেখ স্ববর্ণের ঘর । স্থবৰ্ণ পালঙ্ক শয্যা দেখ মনোহর । পুরীর সম্মুখে গিরি দেখ বিদ্যমান ॥ ভক্ষণ সামগ্রা দেখ অদ্ভুত বিধান ॥ এত শুনি বিদ্যাধর হেতু জিজ্ঞাসিল । রাজভোগে হেন দ্রব্য কি হেতু হইল ॥ ইন্দ্র বলে কহি শুল পূর্বের কাহিনী । মহাপাপ অজ্জিল হুবাহু নৃপমণি ॥ " পিতৃশ্ৰাদ্ধ দিনে এক ক্ষুধার্ত ব্রাহ্মণে । অন্নদান করিলেন অত্যন্ত যতনে ॥ এক গুণ দিলে হেথা হয় সপ্তগুণ । , অন্নদান হেতু এই শুনহ নিপুণ ॥