পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৮৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ե ԳՏ) বরদং শিবাম, মাহেশ্বরং নমামি স্বষ্টিসংহারকারিণীং । [ মহাভারত । ব্ৰহ্ম অস্ত্র অর্জনের হৈল পাসরণ । বিস্ময় মানিয়া চিস্তিলেন মনে মন ॥ গাওঁীব ধনুক বীর ধরি দুই করে । প্রহার করেন দৈত্যগণের উপরে ॥ ইতর মনুষ্য যেন করে ধরি বাড়ি । দৈত্যগণ অর্জনেরে করে তাড়াতাড়ি ॥ দৈত্যগণ অর্জনেরে পরাজিয়া রণে । স্ত্রীগণে লইয়া গেল স্বচ্ছন্দ গমনে ॥ দৈত্যগণ পরশে প্রভুর নারীগণ । পাষাণ পুত্তলি হ’ল ত্যজিয়া জীবন ॥ পরাজয় মানি পার্থ পরম চিন্তিত । কান্দিতে কান্দিতে যান অত্যন্ত দুঃখিত ॥ বদরিকাশ্রমে গিয়া ব্যাসের নিকটে । দণ্ডবৎ প্রণাম করিল করপুটে ॥ অর্জনেরে মলিন দেখিয়া অতিশয় । জিজ্ঞাসা করেন র্তারে ব্যাস মহাশয় ॥ কি হেতু হইলে দুঃখী কুন্তীর নন্দন । আজি কেন দেখি তব মলিন বদন ॥ দুষ্কৰ্ম্ম করিলে কিবা কহত আমারে । পরাজয় হৈলে কিবা সংগ্রাম ভিতরে ॥ দেব-দৈত্যে হিংসিলে কি স্থজনে পীড়িলে । দুর্জন সেবনে কিবা হীনতা পাইলে ॥ এত বলি আশ্বাসিয়া মুনি মহাশয় । করে ধরি বসাইল বীর ধনঞ্জয় ॥ কান্দিয়া কহেন পার্থ মহাধনুৰ্দ্ধর । কি কহিব মুনি সব তোমাতে গোচর ॥ এত দিনে পাগুবেরে বিধি হৈল বাম । গোলোকনিবাসী হ’ল কৃষ্ণ বলরাম ॥ যার অনুগ্রহে আমি বিজয়ী সংসারে । হেলায় গাণ্ডীব ধনু ধরি বাম করে ॥ যম সম বৈরীগণে না করিমু ভয় । পরাক্রমে করিলাম তিনলোক জয় ॥ মম পরাক্রম-দেব সব জান তুমি । এক রথে চড়িয়া জিনিমু মর্ত্যভূমি । সেই তুণ সেই ধনু সেই ধনঞ্জয় । সকল নিষ্ফল হৈল শুন মহাশয় ॥ দৈত্যগণ আসি মোরে পরাজিল রণে । কৃষ্ণের রমণী কাড়ি নিল মম স্থানে ॥ প্রভু বিনা এই গতি হইল এখন । এ পাপ জীবনে মম নাহি প্রয়োজন ॥ বিক্রম বিজয় মোর সব দামোদর । তাহার অভাবে ধরি পাপ কলেবর কহ মুনি কি উপায় করিব এখন । কেমনে পাইব আমি শ্ৰীমধুসূদন ॥ উচ্চৈঃস্বরে কান্দেন সঘনে বহে শ্বাস । অর্জনেরে আশ্বাসিয়া কহিলেন ব্যাস ॥ স্থির হও ধনঞ্জয় শোক পরিহর । আমি যাহা কহি তাহ শুন বীরবর ॥ যা কহিলে ধনঞ্জয় সব আমি জানি । বল বুদ্ধি পরাক্রম দেব চক্রপাণি ॥ অনাদি পুরুষ তিনি ব্রহ্ম সনাতন । উৎপত্তি প্রলয় স্থিতি সেই নারায়ণ ॥ নিলেপ নিগুণ নিরঞ্জন নিরাকার । অক্ষয় অব্যয় তিনি অনন্ত আকার ॥ জল স্থল শূন্য তিনি সকল সংসার । সৰ্ব্বভুতে আত্মারূপে নিবাস র্তাহার ॥ আত্মপর নাহি তার সব সমজ্ঞান । কীট পক্ষী মনুষ্যাদি সকলি সমান ॥ তিনি ব্রহ্মা তিনি বিষ্ণু তিনি পঞ্চানন । ইন্দ্র চন্দ্র সূৰ্য্য তিনি পবন শমন । চরাচর সর্ববভুতে বিশ্বে যেই জন । পরমাত্মা রূপে ব্রহ্ম সেই সনাতন ॥ কে জানিতে পারে সেই প্রভুর মহিমা । চারিবেদে কিঞ্চিৎ না পায় যার সীমা ॥ শত কোটি কল্প যোগী ধ্যানে রাখি মন । তবু নাহি পায় সেই প্রভু দরশন ॥ তোমরা পাইলে কত পুণ্যে সে বান্ধব । কৃষ্ণ বিনা অন্য নাহি জান তোমা সব ॥ ভক্তির অধীন সেই প্রভু নারায়ণ । ভক্তিযোগে পাই সেই প্রভু দরশন ॥ ত্যজিয়া মনের ধন্দ ভজ গিয়া তাহে । ভক্তিরূপ ভগবান দুর হরি নহে ॥