পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পসল্প প্রমাণের কথা তুলতেই আমি ভয় পেয়ে গেলুম। লোকটা বৈজ্ঞানিক, একটা ইটো তিনটে করে যখন প্রমাণ বের করতে থাকবে আমার নাওয়াখাওয়া যাবে ঘুচে । আমাকে বলতে হল, নিশ্চয় চুরি গিয়েছে। কিন্তু এমন আশ্চর্য চোরের আড্ডা কোথায় যে এক-পাটি চটি চুরি করে বেড়ায়, আমার জানতে ইচ্ছে করে । নীলু বললে, ঐটেই হচ্ছে তর্কের বিষয়। এর থেকে প্রমাণ হয় যে, চামড়ার বাজার চড়ে গিয়েছে । *. আমি দেখলুম, এর উপরে আর কথা চলবে না। বললুম, নীলু ভাই, তুমি আসল কথাটি ধরতে পেরেছ। আজকালকার দিনে সবই বাজার নিয়ে। তাই আমি দেখেছি, মল্লিকদের দেউড়িতে পাঁচ-সাত দিন অন্তর মুচি আসে দরোয়ানজির নাগরা জুতোয় মুকতলা বসাবার ভান করে। তার দৃষ্টি রাস্তার লোকদের পায়ের দিকে । তখনকার মতো তাকে আমি ঠাণ্ড করেছিলুম। তার পরে সেই চটি বেরোল বিছানার নীচে থেকে। নীলুর পেয়ারের কুকুর সেটা নিয়ে আনন্দে ছেড়াৰ্ছেড়ি করেছে। নীলুর সবচেয়ে দুঃখ হল এই চটির সন্ধান পেয়ে, তার প্রমাণ গেল মারা । কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, মানুষ এতবড়ো বোকা হয় কী করে। আমি বললুম, অমন কথা বোলো না দিদি, অঙ্কশাস্ত্রে ও পণ্ডিত । অঙ্ক ক’ষে ক'ষে ওর বুদ্ধি এত সূক্ষ্ম হয়েছে যে, সাধারণ লোকের চোখে পড়ে না। কুসমি নাক তুলে বললে, ওঁর অঙ্ক নিয়ে কী করছেন উনি। আমি বললুম, আবিষ্কার। চটি কেন হারায় সেটা উনি সব সময় খুজে পান না, কিন্তু চাদের গ্রহণ লাগায় সিকি সেকেণ্ড দেরি কেন হয়, এ তার 〉bア