পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বেকসুর খালাস . 을0 কথা কহিতে চেষ্টা করিলাম, কিন্তু মুখ দিয়া কোনও শব্দ বাহির করিতে পারলাম না। কেবল ফ্যাল ফ্যাল করিয়া রমণীর মুখপানে চাহিয়া রহিলাম। & রমণী আমার ললাটে হস্তপশ করিয়া বলিলেন, “না, জর আর নেই, জরটা তাহলে ছেড়েছে। এখন কি কট আছে আপনার বলন দেখি।” আমি পৰ্ববং তাঁহার পানে নীরবে চাহিয়া রহিলাম। তিনি বলিলেন, “আমার কথার উত্তর দিচ্ছেন না কেন ? উত্তর দিন !" - আমি প্রাণপণে কথা কহিতে চেষ্টা করিলাম, কিন্তু কৃতকাৰ্য্য হইলাম না। এই সময় আর একজনের পদশব্দ শুনিতে পাইলাম। সেই রমণুীর পাবে আসিয়া যে দাঁড়াইল, সে বালিকা, অত্যন্ত সন্দেরী, বয়স বোধ হয় ১৬৷১৭ মাত্র। আমার চোখের পানে চাহিয়াই সে বলিয়া উঠিল, “এই যে, ইনি জেগেছেন দেখছি!" মহিলাটি বলিলেন, “জেগেছে ত, কিন্তু কথা কইছে না যে! তুই কোনও কথা জিজ্ঞাসা করে দেখ দেখি, লায়লী !" মেয়েটি বলিল, “আমি কি জিজ্ঞাসা করব মা ? তুমিই জিজ্ঞাসা কর।” বলিয়া একদটে আমার মুখপানে চাহিয়া রহিল। আমি একবার তার মুখের দিকে, একবার তার মা'র মথের দিকে চাহিতে লাগিলাম। মা-ও সন্দেরী বটে, কিন্তু মেয়ে তার বহুগণ অধিক সুন্দর। মহিলাটি এইবার প্রায় চীৎকার করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনার নাম কি ? বাড়ী কোথায় : “ আমি পবববৎ নীরব। তিনি কন্যার দিকে চাহিয়া বলিলেন, “দেখলি ? অামার বোধ হয় ছেলেটি বোবা কালা ৷” বোবারা সাধারণতঃ কালাও হইয়া থাকে, এই কারণেই বোধ হয়, আমাকে বাকশক্তিহীন দেখিয়া ইনি আমায় কালাও স্থির করিয়াছেন । m মেয়েটি বলিল, “তাই হবে মা। নইলে আর মোটর চাপা পড়ে - যাক, এত দিনে আমার মনের আপশোষ গেল। সেই দিন থেকে মা, খালি আমার মনে হ’ত,—ছি ছি, কি করলাম ? শেষে মানুষ চাপা দিলাম! তা হলে মা, আমার ত কোনও দোষ ছিল না, দেখতে পাচ্ছ ত !" “মোটর চাপা দিলাম" শনিবামাত্র আমার পকেব-সমতি জাগিয়া উঠিল। ঠিকই ত বটে, আপিস অঞ্চল হইতে বাসায় ফিরিবার সময় মোটরেই ধাক্কা খাইয়াছিলাম। এই মেয়েটিই বোধ হয় সে মোটরে ছিল, অজ্ঞান অবস্থায় তুলিয়া আমায় বাড়ী আনিয়াছে। সে কবে, কত দিন হইল কে জানে ! সকল কথা ভাল করিয়া সমরণ করিবার জন্য আমি চক্ষ মুদিলাম। তার পর কথন আবার ঘুমাইয়া পড়িলাম জানি না। * আবার যখন চক্ষু খলিলাম, দেখিলাম, পালঙ্কের নিকট, সেই মহিলাটি দাঁড়াইয়া, এবং চেয়ারে এক ভদ্রলোক বসিয়া আমার নাড়ী টিপিয়া আছেন। আমাকে চক্ষ খালিতে দেখিয়া ডাক্তার বলিলেন, “খিদে পেরেছে, কিছয় খাবে ?" আমার উত্তর শনিতে না পাইয়া বলিলেন, “এবার দধটকু খাইয়ে দিন পিয়ারী বিবি।” লায়লী, পিয়ারী বিবি –এরা মসলমান নাকি ? কিন্তু সাজপোষাক ত হিন্দরেই মত। জাতটা বোধ হয় গোল্লায় গেল। কিন্তু উপায় কি ? পিয়ারী বিবি একটা নলওয়ালা চীনা মাটির পাত্র অনিয়া আমার মখে একটা একটা করিয়া দুধ ঢালিয়া দিতে লাগিলেন। দধে পান করিয়া আমি আবার ঘামাইয়া পড়িলাম। পনেরায় যখন জ্ঞান হইল, দেখিলাম, ঘরে বিদ্যুতের আলো জলিতেছে। একজন পথািলকায় ভদ্রলোক, ইংরাজি পোষাক পরা, ঘরের মধ্যস্থলে দাঁড়াইয়া পিয়ারী বিবির