পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१०७ গল্প-গ্রন্থাবলী আহারান্তে, রাত্রি ১০টার সময় সরোজ বিদায় গ্রহণ করিল। লাহিড়ী সাহেবও রাতকাপড় পরিবার জন্য নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করিলেন। সষী বলিল, “আমিও তা হলে শুইগে জ্যেঠাইমা !" “হ্যাঁ মা। চল—আমিও তোর ঘরে যাচ্চি—একটা কথা আছে।” *. সষমার শয়নকক্ষে গিয়া, একটা চেয়ারে বসিয়া গহিণী বলিলেন, “সরোজ ত মহা বায়না নিয়েছে মা ।” 哆 নিজ শয্যাপ্রান্তে বসিয়া সযেমা বলিল, “কি বায়না জেঠাইমা ?” “তোকে বিয়ে করবার জন্যে ক্ষেপেছে।” কথাটা শনিবাঁমাত্র সর্ষমা চক্ষ অবনত করিল। গহিণী দেখিলেন, তাহার মখে ক্ৰোধ ও বিরক্তির লক্ষণ ফুটিয়া উঠিতেছে। ক্ষণপরে সষেমা বলিল, “তা হলে, তিনি ক্ষ্যাপার মত কাজই করেছেন জ্যেঠাইমা !” “কেন ?” _ “কারণ, বিয়ে ত আমি করবো না।” “কেন করবে না বাছা ? তোমার এই কাঁচা বয়স ; ভাল ঘর বর পেলে বিয়ে ত করাই উচিত। কেন, সরোজকে কি তোমার পছন্দ হয় না ? বিশ্বান, সচ্চরিত্র, দেখতেও ভাল, নিজে যথেষ্ট টাকা উপাত্তজন করছে" এর চেয়ে ভাল পাত্র কোথায় পাওয়া যাবে মা ?” সষমা বলিল, “সে কথা নয় জ্যেঠাইমা। কিন্তু আমি যে—বিধবা।” "কেন, বিধবা-বিবাহ কি তুমি তবে ন্যায়সঙ্গত ধৰ্ম্মসঙ্গত মনে কর না ? লেখাপড়া ংশখার ফল কি হল তবে ?” “সকল বিধবার পক্ষে আবার বিবাহ করা অধম বা অন্যায় বলে আমিও মনে কারনে জ্যেঠাইমা।" “তবে কেন তুমি বিয়ে করতে চাওনা বাছা ?” g সষমার মুখে আসিয়াছিল, “কারণ, আমি আমার স্বামীকে ভালবাসি, আর যতদিন বেচে থাকবো, বাসবো।”—কিন্তু একথা বলিতে তাহার লজ্জা করিল। কয়েক-মহত্তে" ভাবিয়া লইয়া সে বলিল, “আপনি ত জানেন জ্যেঠাইমা, আমার মা যখন চলে গেলেন, কতলোক ত বাবাকে ফের বিয়ে করার জন্যে বলেছিলেন। বাবার তখন মাত্র ৩৫ বৎসর লয়স—পরষ মানুষের পক্ষে সেটা পণ যৌবন কাল। কিন্তু বাবা ত বিয়ে করেন নি। বাবার ঘরে, মার যে অয়েলপেটিং ছবিখানি টাঙ্গানো থাকতো, বাবা রোজ রাত্রে শতে যাবার আগে, মার সেই ছবিখানি ফলে দিয়ে সাজাতেন—ব্যারাম হবার পরও কয়েকদিন তার অন্যথা হয়নি। বাবা যদি আবার বিয়ে করতেন, তা হলে কেউ ত তাঁকে বলতে পারতো না যে তিনি অন্যায় বা অধম করলেন।” লাহিড়ী গহিণী অবাক হইয়া কিছুক্ষণ সুষমার মুখের পানে চাহিয়া রহিলেন। তাহার কথাগুলির তাৎপৰ্য্য মনে মনে চিন্তা করিতে লাগিলেন। তারপর বলিলেন, “তোমার বাবা, তোমার মাকে নিয়ে কত বচ্ছর ঘরকন্না করেছিলেন–কিন্তু তুমি ত বাছা, তোমার স্বামীর সঙ্গ পরো দটি বছরও পাওনি।” সষমা, নীরবে নতমখে বসিয়া রহিল। কোনও উত্তর করিল না। গহিণী আরও কিয়ৎক্ষণ নীরবে বসিয়া চিন্তা করিলেন। সাষমার প্রতি তাঁহার মন শ্রদ্ধায় পণ্য হইয়া উঠিল। বলিলেন, “তোমার বাবা, তোমার মাকে বড় ভালবাসতেন তা আমরা জানতাম । তোমার মার মৃত্যুর পর কিছুদিন অবধি তিনি পাগলের মত হয়ে গিয়েছিলেন। আচ্ছা, একটা কথা আজ তোমায় জিজ্ঞাসা করি। তুমি রোজ আয়াকে দিয়ে ফল আনাও,