পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


थफुि sêễ দোকানদার বলিল, “ও রোজ এই সময় আসিয়া এক প্যাকেট করিয়া কাঁচ সিগারেট *कर्ननझालदैग्ना, आननाब्र कारछ याग्न ।” “কি কাজ করে ও ?” wo “কাছারীর রাস্তায় পাহাড়িয়া মেয়েদের জন্য যে ইংরাজী স্কুল খালিয়াছে, সেই চকুলে ও পড়ায়। সাড়ে দশটায় স্কুল বসে।” “ওঃ”—বলিয়া কিঞ্চিৎ সওদা তাহার দোকান হইতে কিনিয়া আমি গহে ফিরিলাম। খাকীর সঙ্গে গোপনে পরামর্শ করিলাম, বেড়াইতে বাহির হইবার সময় সন্ধাকে সঙ্গে করিয়া আনিতে হইবে এবং বেলা দশটার সময় বাজারের মধ্যে ঘরিয়া বেড়াইতে হইবে, যাহাতে ঘড়ির কীৰ্ত্তি সে দেখিতে পায়। ' পরদিন চা-পানের পর খাকী সাধার ঘরে গিয়া বলিল, “দাদা, বিকেলে ত তুমি আমাদের একদিনও বেড়াতে নিয়ে যাবে না, তোমার ঘড়িকে মাতৃমন্ত্রে দীক্ষিত করবার সেই সময়। যা হোক, বাবা বিকেলে বেরোন, তোমার জন্যে কিছল আটকায় না। এ বেলা ত বাবা বেরোন না, এ বেলা কেন তুমি আমাদের সঙ্গে চল না।” সবো বলিল, “কেন, রামখেলাওনকে সঙ্গে নিয়ে যা না।” খাকী বলিল, "রামখেলাওন ত যাবেই, নইলে ছাত-টাতাগলো বইবে কে? তুমি আমাদের সঙ্গে একদিনও বেরোও না বলে মা কত দুঃখ করেন।” - সন্ধা বলিল, “করেন নাকি ? আচ্ছা, তবে চলা, আমিও যাচ্চি।" যে মতলব করিয়া সন্ধাকে বেড়াইতে লইয়া গেলাম, তাহা সিদ্ধ হইল না। দশটার পাবে বাজারের ভিতর ঢাকিয়া তরকারী কিনিয়া বেড়াইতে লাগিলাম, এবং মাঝে মাঝে সেই দোকানের দিকে চাহিতে লাগিলাম; কিন্তু ঘড়িকে দেখিতে পাইলাম না। দশটা বাজিল, সওয়া দশটা হইল, সাড়ে দশটা হইয়া গেল, তথাপি ঘড়ির দশন নাই। অবশেষে ক্ষমমনে বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম। - সে রাত্রিতে একমনে মা মঙ্গলচণ্ডীকে ডাকিতে লাগিলাম। কেন মা, আমার প্রতি এমন নিদয়া হইলে তুমি ? তোমার চরণে আমি কি অপরাধ করিয়াছি মা, যে জন্য আমার মনোবাঞ্ছা তুমি পণ করিতেছ না ? so পরদিন প্রাতে আবার সধাকে লইয়া বেড়াইতে বাহির হইলাম। ফিরিবার পথে দশটার পর্বে বাজারেও প্রবেশ করিলাম, কিন্তু কোন ফল হইল না। - সে দিন বিকালে সন্ধা যেমন বেড়াইতে বাহির হয়, সেইরাপই হইল। অন্য দিন কত্তার সঙ্গে আমরা বেড়াইয়া ফিরিবার অপেক্ষণ মধ্যে সেও ফিরে। কিন্তু আজ তাহার বিলম্ব হইতে লাগিল। যত রাত্রি হইতে লাগিল, ভাবনাও তত বাড়িতে লাগিল। এত দেরী কেন ? ছেলের কোন বিপদ-আপদ ঘটিল না ত ? উ‘হাকে বলিলাম, উনি তাচ্ছিল্যভরে বলিলেন, “কচি খোকাটি ত নয়, ভাবনা কিসের ? যখন হয় আসবে। রাত হ’ল, আমাদের খাবার দিতে বল ।” খাকীর ও উহার খাবার দিতে বলিলাম। আমার ঠাঁই হয় নাই দেখিয়া উনি বলিলেন, “তুমি এখন খাবে না ?” o প্রবীণা গহিণীরা আমায় ক্ষমা করবেন। চিরদিন স্বামীর সঙ্গে বিদেশে বিদেশে কাটাইয়াছি, যদিও সাহেব-মেম বনি নাই, বিশেষ কোনও অখাদ্য কুখাদ্য খাই না, মেঝের উপর আসন পাতিয়া বসিয়া কাঁসার থালা-বাটিতে ভাত-ডালই খাইয়া থাকি, তথাপি স্বামী ও পত্র-কন্যা সহ একত্র বসিয়া খাওয়াই আমাদের প্রথা। নাহলে উনি ছাড়েন না। সেই যে কথায় বলে না— * ,