পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/৪০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


बङ्गालिङ्गांशाद् दिबाङ्ग् ర్సిరి রাজকন্যা প্রবলভাবে নিঃশ্বাস ফেলিতে ফেলিতে বলিলেন, “তোমার হাত থেকে নিম্প্রকৃতি পাবার জন্যে।” কালিদাস বলিলেন, “বাং—মজার লোক তুমি! আমি মরলে তুমি বিধবা হবে না ?” “বিধবা হব সেও ভাল। সারাজীবন তোমায় নিয়ে জনলে পড়ে মরার চেয়ে, বিধবা হয়ে থাকাও ভাল।” কালিদাস বলিলেন, “কেন, আমায় নিয়ে জনলে পড়ে মরবে কেন ? আমার অপরাধ ?” রাজকন্যা বললেন, “তুমি যে মুখ !" কালিদাস বলিলেন, “ওs—আমি মখে, তাই তোমার যোগ্য নই ? বঝেছি। আচ্ছা, তুমি আমায় প্রাণে মেরো না। অামায় যদি তুমি সহ্য করতে না পার, আমি চলে যাচ্চি।” রাজকুমারী ঝনৎকারের সহিত তরবারি ভূমিতে নিক্ষেপ করিলেন। উন্মুক্ত বারের দিকে অঙ্গলি নিন্দেশ করিয়া বলিলেন, “যাও—দর হয়ে যাও।” তাঁহার গ্রীবা উন্নত, বক্ষ ঘন ঘন স্ফীত হইতেছে, দুই চক্ষ দিয়া ঘণা ও অবজ্ঞা উছলিয়া পড়িতেছে। কালিদাস তৎক্ষণাৎ রাজবাটী পরিত্যাগ করিলেন। রাজপথগলি অতিক্ৰম করিয়া, রাজধানীর বাহির হইয়, যে দিকে দুই চক্ষ যায়, কালিদাস সেই দিকে চলিতে লাগিলেন। রাজধানী হইতে কিছু দরে এক অরণ্য ছিল। কালিদাস ভাবিলেন—“লোকালয়ে মাখ দেখাইবার আমার আর প্রয়োজন নাই। বনের মধ্যেই প্রবেশ করি, বাঘে ভালকে আমায় খাইয়া ফেলকে সেই ভাল। সত্ৰী যাহাকে মুখ বলিয়া কাটিতে যায়, তাহার জীবনে ধিক ! বাঁচিয়া থাকার চেয়ে মরিযা যাওয়াই তাহার শতগণে ভাল।”—অরণ্য মধ্যে প্রবেশ করিয়া কালিদাস ভ্রমণ করিতে লাগিলেন, কিন্তু বাঘ ভালকের সাক্ষাৎ পাইলেন না। ক্লমে রাত্রি প্রভাত হইয়া গেল। জঙ্গলের ফল খাইয়া, গাছতলায় শুইয়া, কয়েকদিন কাটাইলেন। এইরুপে বনে ভ্রমণ করিতে করিতে কালিদাস একদিন কালীচন্দ্র নামক এক যোগিপরেষের সাক্ষাৎ পাইলেন। কালিদাসের সেবায় ও স্তবস্তুতিতে যোগী প্রসন্ন হইয়া, তাঁহার পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলেন। কালিদাস নিজ ইতিহাস-বিবাহ, সন্ত্রী কর্তৃক অপমানিত হওয়া প্রভৃতি সমস্তই তাঁহাকে জানাইয়া বলিলেন, “প্রভু, আমি মহামখে। আমার মখস্থ কিসের ঘনচে, আমায় তাহা বলিয়া দিন।" যোগিপরিষে ধ্যানপথ হইয়া, ভবিষ্যতের সমস্ত কথাই অবগত হইলেন। ধানভঙ্গে তিনি বলিলেন, “বৎস, তুমি বনে আসিয়াছিলে বাঘে তোমায় খাইয়া ফেলকে এই মনে করিয়া। বাঘের সাধ্য কি ! পথিবীতে তুমি অদ্বিতীয় মহাকবি হইবে। এই নশ্বর জীবনালেত যশঃশরীরে তুমি অমর হইয়া থাকিবে। বনের বাঘের কথা কি বলিতেছ, কালরাপী মহাব্যাঘ্ৰও তোমায় খাইতে পারবে না। ঐ সরোবরে তুমি স্নান করিয়া এস, আমি তোমায় রবি-মন্ত্র দিতেছি। তুমি আমার নিকটে থাকিয়া সেই মন্ত্র একাগ্রচিত্তে জপ কর—তোমার উপর দৈবকৃপা বষিত হইবে।” কালিদাস স্নান করিয়া আসিয়া, রবি-মন্ত্র গ্রহণান্তর জপ করিতে বসিলেন। ক্লমে রাজধানীতে সংবাদ পেশীছল বনমধ্যে কালীচন্দ্র নামে এক মহাযোগীর আবিভাব হইয়াছে। দলে দলে লোক তাঁহাকে দেখিতে ও প্রণাম করিতে আসিতে লাগিল । কালিদাসের মন্ত্র জপের শেষ দিন, রাজকন্যা চম্পক-কলিকাও সখিগণ সহ যোগিদশনে আসিলেন। যোগী তখন স্থানান্তরে গিয়াছিলেন, কালিদাস বসিয়া মন্ত্রজপ করিতেছিলেন । জপের নিদিষ্ট কাল তখনও উত্তীণ হয় নাই, কিন্তু অধিক বিলম্ব ছিল না। রাজকন্যা সখিগণ সহ আশ্রমের আদরে দাঁড়াইয়া, জপানরত যুবকটিকে দেখিতেছিলেন। তাঁহার সব্বাঙ্গ হইতে তখন কবিত্বপ্রভা ফরিত হইতেছে—রাজকন্যা তাঁহাকে