পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/১৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গোবিন্দ দাসের করচা b'6 চেতনা পাইয়া প্রভূ উঠে দাড়াইলা । একদৃষ্টে মহাবিষ্ণু দেখিতে লাগিলা ॥ সাৰ্ব্বভৌম বলে প্ৰভু দেখি নিজরূপ। উথলিয়া উঠিল তোমার ভাবকৃপ ॥ আপনার মূৰ্ত্তি দেখি লোক শিখাইতে । মহাভাবে মত্ত হয়ে লাগিল। কান্দিতে ॥ সম্মুখে অচল বিষ্ণু তুমি ত সচল । তবে কেন কানি প্রভু কর বহু ছল ৷ তুমি ত সাক্ষাৎ কৃষ্ণ ব্রজেন্দ্র-নন্দন । তবে কেন অন্ধ কর আমার নয়ন ॥ যে না বুঝে তার কাছে কর ভারি ভূরি। মোর কাছে নিজরূপ ন করিহ চুরি । গোবৰ্দ্ধনধারী তুমি বৃন্দাবনপতি । গোপীর জীবন তুমি অগতির গতি । জনমিলে যত্নবংশে তারা না চিনিল । হর্ভাগা যাদবগণ কিছু নাবুঝিল । হাতে পেয়ে না ছাড়িব মুহিত তোমারে । বংশী;ধরি নিজরূপ দেখাও আমারে । তব বক্ষে স্বর্ণ পাঞ্চালিকা আছে লেখা । যার তেজে কালরূপ নাহি যায় দেখ ॥ প্রভু বলে সাৰ্ব্বভৌম মার কথা কহ । আতাল পাতাল কথা কেন না বলহ ॥ মিছে ব্যগ্র হয়ে কেন কহ নানা বাত । শুনিয়া তোমার বাক্য কর্ণে দেই হাত ॥ আমারে কহিয়া তুমি ব্রজেন্দ্র-নন্দন। কেন মোরে অপরাধী কর অকারণ ॥ তব মুখে কৃষ্ণকথা অমৃত সমান। কহ ভট্ট কৃষ্ণকথা জুড়াক পরাণ ॥ ভট্ট বলে বাহা বলাইবে প্ৰভু তুমি। তাহা ভিন্ন কি কহিব নর-পশু আমি ॥ প্রভু বলে বহু বাক্যে আর কাজ নাই । চল আজি স্বস্থানেতে সবে মিলে যাই ॥ আরতি দেখিয়৷ কাশী মিশ্রের সদনে । উপনীত হৈলা আসি সাঙ্গোপাঙ্গ সনে ॥ হেনকালে সাৰ্ব্বভৌম প্রসাদ লইয়া। সেইখানে উপনীত হইল আসিয়া ॥ প্রসাদ বণ্টন করে গোরা বিনোদিয়া । সকলে আনন্দ করে প্রসাদ পাইয়া ॥ প্রকাও আঙ্গিনা কাশী মিশ্রের সদনে । বহুতর লোক আসে প্রভু দরশনে ॥ থাকিয়া মিশ্রের গৃহে গোরা দয়াময়। পরম আনন্দে নিত্য কৃষ্ণগুণ গায় ॥ কত লোক আসে যায় কহিব কেমনে । নিত্য নব নব মুখ মিশ্রের ভবনে ॥ লোক মুখে শুনিয়া প্রভুর আগমন । কত গৌড়বাসী আসে করিতে দর্শন ॥ প্রসাদ আনয়ে নিত্য ভট্ট মহাশয় । প্রসাদ পাইয়। প্রভুর আনন্দ উদয় ॥ আনন্দে প্রসাদ লয়ে গোরা বিনোদিয়া । সকলের হাতে দেন প্রসাদ বাটিয়া ॥ নাম-সঙ্কীর্তন হয় প্রসাদের আগে । সকলে প্রসাদ খায় প্রেম অনুরাগে ॥ ধন্ত হইলাম আজি এই কথা বলি । আনন্দে সকলে নাচে দিয়া করতালি ॥ রামানন্দ বসু আর গোবিন্দ চরণ । বিদায় লইয়া গৌড়ে করিলা গমন ॥ পুনরায় গৌরাঙ্গের দরশন লাগি । শত শত লোক আসে হৈয়া অনুরাগী ॥ শ্ৰীবাস কেশব দাস সিদ্ধ হরিদাস । সকলে মিলিয়া আসে চৈতন্তের পাশ ॥ শাস্তাচাৰ্য্য বিপ্রদাস রূপ সনাতন। বাকি বাধি আইলা করিতে দরশন ॥ আনন্দে মাতিয়া সবে হরিনাম করে। দয়াল চৈতন্য ভক্তি দেন ঘরে ঘরে ॥ কে লবে রে হরিনাম এস মোর ভাই। ইহা বলি হরিনাম বিলায় নিমাই। পাপী তাপী না রহিল প্রভুর কৃপায় । হরিনাম দেন প্রভু যথায় তথায় ॥