পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


v')ბ গোবিন্দ দাসের করচা কোনরূপ স্বার্থের বশীভূত হইয়া এরূপ করিতেছেন না। চিরাগত যে সকল বিশ্বাস তাহাদের মস্তিষ্ক অধিকার করিয়া বসিয়াছে তাহাদের হাত তাহার এড়াইতে পারিতেছেন না। কিন্তু ইহাদের সংস্কারান্ধতা এক এক সময় কিরূপ উৎকট ভাবে দেখা দেয় তাহার একটা দৃষ্টান্ত দেখাইব। করচ, ৩১ পৃষ্ঠায় এক কৃষ্ণবর্ণ শীর্ণকায় সন্ন্যাসীর কথা আছে। চৈতন্যদেবকে দেখিয়া তাহার হৃদয় প্রেমে উৎফুল্প হইয়া উঠিল, গোবিন্দ তাহার সম্বন্ধে এই উপলক্ষে লিখিয়াছেন “প্রেমে যেন পোড়া কাষ্ঠ ফুলিয়া উঠিল।” কিন্তু গোড়া বৈষ্ণব পণ্ডিতটা ভাল করিয়া না পড়িয়াই ভাবিলেন, চৈতন্য দেবকেই “পোড়া কাষ্ঠ” বলা হইয়াছে। তখন তাহার কবিত্বময় ক্রোধের উচ্ছাস উছলিয়। উঠিল। যে চৈতন্যদেবের বর্ণ চম্পক-গেীর, যাহার কাছে বিষ্ক্যত হার মানে ও অতসী ল জত হয়, তাহাকে হতভাগ্য লেখক “পোড়া কাঠ” বলিয়াছে ! এইজন্য রাগে গর গর হইয়া তিনি দুই ফরমা ব্যাপক এক জালাময়ী বক্তৃত লিখিয়া ছাপাইয়া ফেলিলেন। দৈবাৎ আমার সঙ্গে দেখা হইলে, তিনি তাহার ফরমা দুটিতে যে নিতান্ত ভুল বুঝিয়া ক্রোধের অভিব্যক্তি করিয়াছেন তাহা আমি করচা আনিয়া দেখাইয়া দিলাম। তিনি আমার নিকট হইতে ছুটিয়া পালাইয়া সেই দুটি ফৰ্ম্ম পোড়াইয়া ফেলিলেন, তাহা আর প্রকাশিত হইল না। কিন্তু অন্ধ সংস্কারাচ্ছন্ন দু-চারজন লোক ছাড়া আরও একশ্রেণীর লোক দেখা দিয়াছেন, র্তাহারা কখনই প্রশ্রয়যোগ্য নহেন, কারণ তাহারা ইচ্ছা করিয়া সত্যের অপলাপ করিতেছেন। ইহঁারা পত্রিকার স্তন্তে, বাজারে ও নানাবিধ সভা সমিতিতে প্রচার করিয়া বেড়াইতেছেন যে গোবিন্দ দাসের করচায় লিখিত আছে—মহাপ্ৰভু বেষ্ঠাসক্ত ছিলেন। তাহারা আরও বলিতেছেন যে চৈতন্তদেবকে গোবিন্দ দাস রমণীসঙ্গলিপ্ত সহজিয়ী রূপে অঙ্কিত করিয়াছেন। এমন সকল কথা শুনিলে নিরীহ ভক্তবৃন্দের অবশ্যই নিতান্ত ক্রুদ্ধ হইবার কথা । এমন অনেক অশিক্ষিত এবং অর্ধশিক্ষিত বৈষ্ণব ধনকুবের আছেন যাহারা এই কথা শুনিয়া অতিশয় বিরক্ত হইয়াছেন। গোবিন্দ দাসের করচা পড়িবার অনেকেরই সুবিধা হয় নাই। কিন্তু ঐ সকল ব্যক্তির কথায় প্রতারিত হইয়া শুনিয়াছি যে বৈষ্ণব ধৰ্ম্মের আবর্জন দূর করিবার জন্য তাহারা টাকা তুলিয়া একটা ফণ্ডের স্বষ্টি করিয়াছেন। ইহঁাদের মধ্যে কেহ কেই প্রকাগু ভাবে শুধু জয়গোপাল গোস্বামীকে নহে,—আমাকেও জালীয়াত, বলিয়া প্রতিপন্ন করিবার চেষ্টা পাইতেছেন। ইহঁাদের কাহারও কাহারও সততার অভাব দিবালোকবৎ স্বপ্রকাশ। পূর্বেই উক্ত হইয়াছে জয়ানদের চৈতন্যমঙ্গলে গোবিন্দ কৰ্ম্মকার চৈতন্তের বৈরাগ্যের সঙ্গী বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছেন এবং উক্ত চৈতন্যমঙ্গলগ্রন্থ সাহিত্য পরিষদ হইতে নগেন্দ্রনাথ বসু ও কালীদাস নাথ কর্তৃক সম্পাদিত হইয়া প্রকাশিত হইয়াছে। ১৩৩১ সালের ২৬ মাঘ তারিখের আনন্দবাজার পত্রিকায় “কোন বিশিষ্ট বৈষ্ণব” কর্তৃক লিখিত একটা প্রবন্ধে কথিত হইয়াছে যে জয়ানন্দের মাত্র একখানি প্রাচীন পুথি ছিল এবং সেই