পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


• শিশ্নোদর-পরায়ণ নিষ্ঠা-বিবজিত । o অর্থের লাগিয়া মিথ্যা কহে অবিরত ॥ যোনিকট রমণীর মুখলাল খায়। ভক্তি অমৃতের ধারা নিছিয়া ফেলায় ৷ বেঙ্গার অন্নেতে রুচি বেঙ্গা অতুগত । কনক কামিনী কলা কাম কেলি রত ॥ একারণ মুহি শিখা স্বত্র তেয়াগিয়া । বেড়াইব দ্বারে দ্বারে হরিনাম দিয়া ॥ হরিনাম মহামন্ত্র দীক্ষা নাহি ষার । সেই নাম পথে ঘাটে করিব প্রচার । চণ্ডাল যুবক গৃহী বালবৃদ্ধ নারী। নামে মত্ত হয়ে দাণ্ডাইবে সারি সারি ॥ বালকে বলিবে হরি বালিকা বলিবে । পাষণ্ড অঘোরপন্থী নামে মত্ত হবে । আকাশ ভেদিয়া নামের পতাকা উড়িবে। রাজা প্রজা এক সঙ্গে গড়াগড়ি দিবে ॥ সন্ন্যাস করিয়া যদি না লই কেীপীন । তবে কিসে উদ্ধারিব পাপী তাপী দীন ॥ কলির জীশের দশা মলিন দেখিয়া । থাকিতে পারিন আর কাপে মোর হিয়া। করঙ্গ কেীপীন লয়ে সন্ন্যাস করিব। রাধা কৃষ্ণ নাম দিয়া সবে উদ্ধারিব ॥ যার বড় পাপী তাপী তাদের লাগিয়।। সদা মোর চিত্ত কান্দে আকুল হইয়া ॥ মোর সহ এরূপে করেন আলাপন । হেন কলে শচী ( বা দিলা দরশন । পুত্রবধু দীপ লষ্টয় নবদ্বীপের রাস্তায় রাস্তায় চৈ স্তৰে খুক্তিয় বেড়াইতে লাগিলেন। বর্ণনাওলি ভ:য়ি কুন্দর, কিন্তু উহ। ঐতিহাসিক নহে। চৈতন্যদেব কি মাতার নিকট বিদার গ্রহণ না করিয়! চোরের মত পালাইয়া যাইতে পারেন ? এখানে করচ ও চৈতষ্ঠাভাগবতে ঐতিহাসিক তত্ত্ব যথাযথভাবে বর্ণিত .হুইয়াছে । গোবিন্দ দাসের করচা আর্থিবিথি শচী দেবী বাহিরে আসিয়া । সম্মুখে দাণ্ডাল মাতা হস্ত প্রসারিয়া ॥ তার পরে জননীর ধরিয়া চরণ। বিদায় লইয়া প্রভু করিলা গমন ॥ কান্দিতে লাগিলা মাতা দ্বারে দাড়াইয়া । পশ্চাতে চলিহু মুহি খড়ম লইয়া ॥ কাঠের পুতলী সম শচী দাও ইলা । ঝর ঝর অশ্রু বারি পড়িতে লাগিলা ॥ * তার পরে দ্বার হইতে হইয়া বাহির । গঙ্গা পার হয়ে তবে চলে ধৰ্ম্মবীর ॥ পার হৈয়া প্ৰভু চলে কণ্টক নগরে । পেছনে পেছনে যাই সেবা করিবারে ॥ যে সব আশ্চৰ্য্য লীলা পাই দেখিবারে । করচা করিয়া রাখি শক্তি অনুসারে ॥ সন্ধ্যাকালে পৌছিন্থ কণ্টক নগরে । কাংস্ত শঙ্খ ঘণ্টা ধ্বনি হয় ঘরে ঘরে ॥ তার পর রাত্রি যোগে মুকুনা শেখর। অবধৌত ব্ৰহ্মানন্দ আর গদাধর । গুরুদেব গঙ্গাদাস গাথক শিবাই । একে একে দেখা দিতে লাগিল সবাই ॥ নিশীথ সময়ে তবে হরি বলি গোরা । নাচিতে লাগিল প্রেমে হইয়া বিভোরা ॥

  • শচীদেবীর এই চিত্রের সঙ্গে চৈতন্য ভাগবতের বর্ণিত মূৰ্ত্তি ঠিক একরূপ, “ৰত কিছু বলে প্ৰভু শচী নাহি শুনে। উত্তর না ক্ষুরে কাদে অথর নয়নে ॥

প্রভু চলিলেন শুনি শচী জগন্মাতা। জড় হইলেন কিছু নাহি ক্ষুরে কথা।” (চৈ, ভা, মধ্য ২৪জ) এই মূৰ্ত্তিমতী শোকের মুক চিত্র, এবং “কাঠের পুতলী"র ন্যায় নিৰ্ব্বাক ছবি—দুইই ঠিক একরূপ।