পাতা:গোরা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।


বিনয়ও না হাসিয়া থাকিতে পারিল না।

 মহিম কহিলেন, “তােমরা ওদের মুখের উপর সত্যি কথা বলে ওদের অপ্রতিভ করতে চাও! এমনি বুদ্ধি যদি ভগবান তােমাদের না দেবেন তবে দেশের এমন দশা হবে কেন। এটা তাে বুঝতে হবে, যার গায়ের জোর আছে বাহাদুরি করে তার চুরি ধরিয়ে দিতে গেলে সে লজ্জায় মাথা হেঁট করে থাকে না। সে উল্‌টে তার সিঁধকাটিটা তুলে পরম সাধুর মতােই হুংকার দিয়ে মারতে আসে। সত্যি কি না বলো।”

 বিনয়। সত্যি বই-কি।

 মহিম। তার চেয়ে মিছে কথার ঘানি থেকে বিনি পয়সায় যে তেলটুকু বেরােয় তারই এক-আধ ছটাক তার পায়ে মালিশ করে যদি বলি, ‘সাধুজি, বাবা পরমহংস, দয়া করে ঝুলিটা একটু ঝাড়াে, ওর ধুলাে পেলেও বেঁচে যাব’, তা হলে তােমারই ঘরের মালের অন্তত একটা অংশ হয়তাে তােমারই ঘরে ফিরে আসতে পারে, অথচ শান্তিভঙ্গেরও আশঙ্কা থাকে না। যদি বুঝে দেখ তো একেই বলে পেট্রিয়টিজ্‌ম্ । কিন্তু, আমার ভায়া চটছে। ও হিঁদু হয়ে অবধি আমাকে দাদা বলে খুব মানে, ওর সামনে আজ আমার কথাগুলাে ঠিক বড়াে ভায়ের মতাে হল না। কিন্তু কী করব ভাই, মিছে কথা সম্বন্ধেও তো সত্যি কথাটা বলতে হবে। বিনয়, সেই লেখাটা কিন্তু চাই। রােসাে, আমার নােট লেখা আছে, সেটা নিয়ে আসি।

 বলিয়া মহিম তামাক টানিতে টানিতে বাহির হইয়া গেলেন। গােরা বিনয়কে কহিল, “বিনু, তুমি দাদার ঘরে গিয়ে ওঁকে ঠেকাও গে। আমি লেখাটা শেষ করে ফেলি।”

 

“ওগাে শুনছ? আমি তােমার পুজোর ঘরে ঢুকছি নে, ভয় নেই। আহ্নিক শেষ হলে একবার ও ঘরে যেয়ো; তােমার সঙ্গে কথা আছে। দুজন