পাতা:গৌড়রাজমালা.djvu/১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
সেন-রাজবংশ।

গৌড়ীয় সাম্রাজ্যের অধঃপতনের প্রথম সোপান। সেখ শুভোদয়া-গ্রন্থে দেখিতে পাওয়া গিয়াছিল,—রামপালদেব তনুত্যাগ করিলে, মন্ত্রিবর্গ পরামর্শ করিয়া, শিবোপাসক কাঠুরিয়া বিজয়সেনকে সিংহাসনে সংস্থাপিত করিয়াছিলেন। এ পর্য্যন্ত ইহার অনুকূল প্রমাণ আবিষ্কৃত হয় নাই। পাল-সাম্রাজ্যের অধঃপতন-সময়ে সেনরাজগণ যে কোন না কোন উপায়ে, পালরাজগণের শিথিল মুষ্টি হইতে রাজদণ্ড কাড়িয়া লইয়া, গৌড়মণ্ডলে একটি আগন্তুক রাজবংশের প্রতিষ্ঠাসাধনে সফলকাম হইয়াছিলেন, তদ্বিষয়ে সংশয় নাই। এ পর্য্যন্ত প্রাচীন লিপিতে যাহা কিছু প্রমাণ আবিষ্কৃত হইয়াছে, তাহাতে সেন-রাজ্য বাহুবলের রাজ্য বলিয়াই প্রকাশিত হইয়াছে; তাহা পাল-রাজ্যের ন্যায় প্রজাপুঞ্জের নির্ব্বাচন-প্রণালীতে গঠিত গৌড়ীয় সাম্রাজ্য বলিয়া কথিত হইতে পারে না।

 এই সাম্রাজ্য পাল-সাম্রাজ্যের ন্যায় সকল উত্তরাপথে প্রাধান্য রক্ষা করিতে সমর্থ হয় নাই। রণ-পাণ্ডিত্যের অভাব না থাকিলেও,—কাশীধামে, প্রয়াগধামে এবং পুরুষোত্তমক্ষেত্রে জয়স্তম্ভ সংস্থাপিত করিবার প্রমাণ-শ্লোকের অসদ্ভাব না থাকিলেও,—সেন-রাজবংশের অধিকারভুক্ত প্রাচ্য-সাম্রাজ্য পতনোন্মুখ অবস্থায় পতিত হইয়াছিল, এবং অল্পকালের মধ্যে, [মুসলমানের সহিত প্রথম সংঘর্ষেই,] পশ্চিমাঞ্চল পরিত্যাগ করিয়া, পূর্ব্বাঞ্চলের আশ্রয় গ্রহণ করিতে বাধ্য হইয়াছিল।

 কোন্ সময়ে, কাহার শাসনকালে, কিরূপ ঘটনাচক্রে, মুসলমান-শাসন প্রবর্ত্তিত হইবার সূত্রপাত হইয়াছিল, তদ্বিষয়ে নানা তর্কবিতর্ক প্রচলিত হইয়াছে। গৌড়রাজমালা-লেখক তদ্বিষয়ে অনেক নূতন তর্ক উত্থাপিত করিয়াছেন। তাহা বিচারসহ হইয়াছে কিনা, ভবিষ্যতের তথ্যালোচনায় তাহা মীমাংসিত হইতে পরিবে। সুতরাং তাহাকে লেখক মহাশয়ের তথ্যানুসন্ধান-চেষ্টা-সূচক ব্যক্তিগত মত বলিয়াই পাঠকগণ তাহার আলোচনা করিতে পারিবেন।

 সেনরাজবংশের অভ্যুদয়লাভের মূল কারণ সহসা আবিষ্কৃত হইবার আশা না থাকিলেও, তাঁহাদিগের প্রথম রাজধানী কোথায় ছিল, তাহার আবিষ্কার-সাধনের জন্যই, অনুসন্ধান-সমিতি চেষ্টা করিয়াছিলেন। সে চেষ্টা সফল হইয়াছে। তাহাতে উৎসাহ লাভ করিবার পরেই, অনুসন্ধান-সমিতি ক্রমে ক্রমে পাল-রাজবংশের বিবিধ রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত করিবারও সুযোগ প্রাপ্ত হইয়াছেন।

 অনেক দিন হইতে সেন-রাজবংশের এবং পাল-রাজবংশের ইতিহাস-সংকলনের জন্য নানা চেষ্টা প্রবর্ত্তিত হইয়াছে। সে সকল চেষ্টা পুস্তকালয়ের সাহায্যে, [গৃহে বসিয়া,] ইতিহাস-সংকলনের চেষ্টা বলিয়া কথিত হইতে পারে। তাহাতেই নানা তর্কবিতর্ক বিপুলতা লাভ করিয়াছে। যে সকল স্থানে অনুসন্ধান-কার্য্যে অগ্রসর হইলে, তর্কবিতর্ক নিরস্ত হইতে পারিত, তথায় অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হইবার প্রয়োজন অনুভূত হইত না বলিয়া, পুরাতন লিপিতে উল্লিখিত অনেক ঐতিহাসিক তথ্য নানা পুস্তকে মুদ্রিত হইবার পরেও, [ব্যাখ্যা-বিভ্রাটে] তাহার প্রকৃত

 

৸৴৹