পাতা:গৌড়রাজমালা.djvu/৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

উপক্রমণিকা।

প্রশংসনীয় ইতিহাসানুরাগ, অল্পকালের মধ্যেই, অনুসন্ধান-সমিতিকে সকলের নিকট সুপরিচিত করিয়া তুলিয়াছে।

 অনুসন্ধান-ক্ষেত্র এবং অনুসন্ধানের অবসর অল্প হইলেও, অনুসন্ধানের ফল নিতান্ত অল্প হয় নাই। প্রথম ফলই প্রধান ফল। দেশের লোকে দেশের ইতিহাসের উপাদান-সঙ্কলনে প্রবৃত্ত হইলে, কোন্ প্রণালীতে অনুসন্ধান-কার্য্য পরিচালিত করিতে হইবে, প্রথম হইতেই তাহা সম্যক্‌ প্রতিভাত হইয়াছে। আন্তরিক অনুরাগপূর্ণ সহৃদয়তার সঙ্গে, দেশের লোকের সহিত মিলিত হইয়া, তাহাদিগের সাহায্য লাভ করিতে না পারিলে, অনুসন্ধান-চেষ্টায় সম্যক্ সফলকাম হইবার আশা নাই। ইহা প্রথম হইতেই পরিলক্ষিত হইয়াছে। দেশের অধিকাংশ লোক নিরক্ষর,—অথচ তাহারাই পুরাকীর্ত্তির প্রকৃত সন্ধানদাতা। সহৃদয়তার অভাব থাকিলে, তাহাদিগের নিকট হইতে সকল বিষয়ের সন্ধান-লাভের সম্ভাবনা থাকে না। সহৃদয়তার অভাব না থাকিলে, তাহারাই স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া, নানা বিষয়ের সন্ধান প্রদান করে। অনুসন্ধান-সমিতি এই রূপেই অনেক অজ্ঞাতপূর্ব্ব অনুসন্ধান-ক্ষেত্রের সন্ধান-লাভে সমর্থ হইয়াছেন।

 অনুসন্ধান-সমিতি এ পর্য্যন্ত যতদূর অনুসন্ধান-কার্য্য পরিচালিত করিতে সমর্থ হইয়াছেন, তাহাতেই অনেক বিবরণ সঙ্কলিত হইয়াছে। বাঙ্গালীর ইতিহাসে উল্লিখিত হইবার যোগ্য অনেক স্থান আবিষ্কৃত ও পরীক্ষিত হইয়াছে, অনেক চিত্র সঙ্কলিত হইয়াছে, এবং অনেক পুরাকীর্ত্তির নিদর্শনও সংগৃহীত হইয়াছে। এই সকল নিদর্শন তিন শ্রেণীতে বিভক্ত হইবার যোগ্য,—(১) পুরাতন স্থাপত্যের নিদর্শন, (২) পুরাতন ভাস্কর্য্যের নিদর্শন, (৩) পুরাতন জ্ঞান-ধর্ম্ম-সভ্যতার নিদর্শন [অপ্রকাশিত ও অপরিজ্ঞাত হস্তলিখিত সংস্কৃত গ্রন্থ]।

 অনুসন্ধান-লব্ধ এবং পূর্ব্বাবিষ্কৃত ঐতিহাসিক তথ্য একত্র সন্নিবিষ্ট করিয়া, “গৌড়-বিবরণ” নামক [খণ্ডশঃ প্রকাশিতব্য] গ্রন্থ সংকলন করিবার প্রয়োজন অনুভূত হইবামাত্র, অনুসন্ধান-সমিতি তাহার ব্যবস্থা করিয়াছেন। ভিন্ন ভিন্ন বিষয় ভিন্ন ভিন্ন ভাগে আলোচিত হইবে বলিয়া, “গৌড়-বিবরণ” আট ভাগে বিভক্ত হইয়াছে। তাহা যথাক্রমে—রাজমালা, শিল্পকলা, বিবরণমালা, লেখমালা, গ্রন্থমালা, জাতিতত্ত্ব, শ্রীমূর্ত্তিতত্ত্ব, ও উপাসক-সম্প্রদায় নামে অভিহিত হইবে।

 গৌড়-বিবরণের প্রথম ভাগের প্রথম খণ্ড [অনুসন্ধান-সমিতির সুযোগ্য সম্পাদক শ্রীযুক্ত রমাপ্রসাদ চন্দ বি-এ প্রণীত] “গৌড়রাজমালা” প্রকাশিত হইল। তাহার সম্পাদন-ভার আমার উপর ন্যস্ত করিয়া, অনুসন্ধান-সমিতি আমার প্রতি যৎপরোনাস্তি সমাদর প্রদর্শন করিয়াছেন। ইহা আমার পক্ষে নিরতিশয় শ্লাঘার বিষয় হইলেও, এই ভার যোগ্যতর হস্তে ন্যস্ত করিতে পারিলেই ভাল হইত।

 মুসলমান-শাসন প্রতিষ্ঠিত হইবার পূর্ব্বে, গৌড়মণ্ডলে সেনবংশীয় নরপালগণের বিজয়-রাজ্য প্রতিষ্ঠিত ছিল। তৎপূর্ব্বে পালবংশীয় নরপালগণ এ দেশের শাসন-কার্য্যে ব্যাপৃত ছিলেন। এ কথা ইতিহাস-বিমুখ বাঙ্গালীর নিকটও একেবারে অপরিচিত হইয়া পড়ে নাই। ইহার

৵৹