বৈশ্য বলে এই কথা সত্য মহাশয়।
নিষ্ঠুরতা কোনরূপে অন্তরে না লয়॥
কর যোড়ে বলে রাজা তপোধন স্থানে।
চিত্ত স্থির নহে মম এই সব শুনে॥
আত্ম জনে বৈশ্যকে ক’রেছে বিড়ম্বন।
তবু মায়া নাহি ছাড়ে কিসের কারণ॥
বৈশ্য আমি দুই জন অত্যন্ত দুঃখিত।
পাপাত্মাকে মায়া হয় একি বিপরীত॥
মুনি বলে এ সংসার মায়ার কারণ।
মায়াতে মোহিত যত পশু পক্ষীগণ॥
ক্ষুধাতে যে প্রাণ যায় তাতে নাই জ্ঞান।
আপনার ভক্ষ্য দ্রব্য খাওয়ায় সন্তান॥
মহামায়া হ’তে মায়া হ’য়েছে উৎপত্তি।
যোগ নিদ্রারূপে মোহ ক’রেছে শ্রীপতি॥
রাজা বলে কহ মুনি কেন তাঁর জন্ম।
তাঁহার স্বভাব কহ কি তাঁহার কর্ম্ম?
মুনি বলে জন্ম মৃত্যু নাহিক তাঁহার।
দেব উপকারে আবির্ভাব বারে বার॥
যোগ নিদ্রাগত যবে শ্রীমধুসূদন।
অনন্ত শয়নে আছে দেব নারায়ণ॥
হরির নাভিতে আছে ব্রহ্মা প্রজাপতি।
বিষ্ণু কর্ণ হ’তে দুই অসুর উৎপত্তি॥
প্রবল মধুকৈটভ অতি দুরাচার।
জন্মিয়া উদ্যত হ’ল ব্রহ্মা মারিবার॥