পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শচীশ VOZD হাড়ে হাড়ে জ্বালাইতে লাগিলাম, এবং বাছিয়া বাছিয়া এমনসকল ভালো কাজে লাগিয়া গেলাম যাহাতে দেশের ভালোমানুষের ছেলে আমাদিগকে ভালো কথা না বলে। শচীশ ছিল আমাদের ফুল, সে যখন সরিয়া দাড়াইল তখন নিতান্ত কেবল আমাদের কাটাগুলো উগ্র এবং উলঙ্গ হইয়া উঠিল। o দুই বছর শচীশের কোনো খবর পাইলাম না । শচীশকে একটুও নিন্দা করিতে আমার মন সরে না, কিন্তু মনে মনে এ কথা না ভাবিয়া থাকিতে পারিলাম না যে, যে স্বরে শচীশ বাধা ছিল এই নাড়া খাইয়া তাহা নামিয়া গেছে । একজন সন্ন্যাসীকে দেখিয়া একবার জ্যাঠামশায় বলিয়াছিলেন, “সংসার মানুষকে পোদারের মতো বাজাইয়া লয়, শোকের ঘা, ক্ষতির ঘা, মুক্তির লোভের ঘা দিয়া । যাদের স্বর দুর্বল পোদ্দার তাহাদিগকে টান মারিয়া ফেলিয়া দেয় ; এই বৈরাগীগুলো সেই ফেলিয়া-দেওয়ার মেকি টাকা, জীবনের কারবারে অচল। অথচ এরা জাক করিয়া বেড়ায় যে, এরাই সংসার ত্যাগ করিয়াছে। যার কিছুমাত্র যোগ্যতা আছে সংসার হইতে তার কোনোমতে ফসকাইবার জো নাই। শুকনো পাতা গাছ হইতে ঝরিয়া পড়ে গাছ তাকে ঝরাইয়া ফেলে বলিয়াই— সে যে আবর্জন ।” এত লোক থাকিতে শেষকালে শচীশই কি সেই আবর্জনার দলে পড়িল । শোকের কালো কষ্টিপাথরে এই কথাটা কি লেখা হইয়া গেল যে, জীবনের হাটে শচীশের কোনো দর নাই ।