পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Q& চতুরঙ্গ দ্বাদশী। গুরুজি বলিলেন, “আজ এই গুহাতেই রাত কাটাইতে হইবে।” আমরা সমুদ্রের ধারে বনের তলায় বালুর পরে তিনজনে বসিলাম। সমুদ্রের পশ্চিমপ্রান্তে সূর্যাস্তটি আসন্ন অন্ধকারের সম্মুখে দিবসের শেষ-প্ৰণামের মতো নত হইয়া পড়িল । গুরুজি গান ধরিলেন— আধুনিক কবির গানটা তার চলে— পথে যেতে তোমার সাথে মিলন হল দিনের শেষে । দেখতে গিয়ে, সাজের আলো মিলিয়ে গেল এক নিমেষে । সেদিন গানটি বড়ো জমিল । দামিনীর চোখ দিয়া জল ঝরিয়া পড়িতে লাগিল । স্বামীজি অন্তরা ধরিলেন— দেখা তোমায় হোক বা না হোক তাহার লাগি করব না শোক, ক্ষণেক তুমি দাড়াও, তোমার চরণ ঢাকি এলোকেশে । স্বামী যখন থামিলেন সেই আকাশ-ভরা সমুদ্র-ভরা সন্ধ্যার স্তব্ধতা নীরব স্বরের রসে একটি সোনালি রঙের পাকা ফলের মতো ভরিয়া উঠিল। দামিনী মাথা নত করিয়া প্রণাম করিল : অনেকক্ষণ মাথা তুলিল না, তার চুল এলাইয়া ੋਂ লুটাইয়া পড়িল ।