পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ф, е চতুরঙ্গ দিয়া শচীশ বলিল, “ভাই বিস্ত্রী, প্রকৃতির মায়া দেখিতে পাইতেছ না, কেননা সেই মায়ার ফঁাদে আপনাকে জড়াইয়াছ । যে সুন্দর রূপ দেখাইয়া আজ তোমাকে সে ভুলাইয়াছে, প্রয়োজনের দিন ফুরাইয়া গেলেই, সেই রূপের মুখোশ সে খসাইয়া ফেলিবে ; যে তৃষ্ণার চশমায় ঐ রূপকে তুমি বিশ্বের সমস্তের চেয়ে বড়ো করিয়া দেখিতেছ সময় গেলেই সেই তৃষ্ণাকে মৃদ্ধ একেবারে লোপ করিয়া দিবে। যেখানে মিথ্যার ফাদ এমন স্পষ্ট করিয়া পাতা, দরকার কী সেখানে বাহাতুরি করিতে যাওয়া ।” আমি বলিলাম, “তোমার কথা সবই মানিতেছি ভাই, কিন্তু আমি এই বলি, প্রকৃতির বিশ্বজোড়া ফাদ আমি নিজের হাতে পাতি নাই এবং সেটাকে সম্পূর্ণ পাশ কাটাইয়া চলি এমন জায়গা আমি জানি না। ইহাকে বেকবুল করা যখন আমাদের হাতে নাই তখন সাধনা তাহাকেই বলি, যাহাতে প্রকৃতিকে মানিয়া প্রকৃতির উপরে উঠিতে পারা যায়। যাই বল ভাই, আমরা সে রাস্তায় চলিতেছি না, তাই সত্যকে আধখানা ছাটিয়া ফেলিবার জন্য এত বেশি ছট্‌ফট্‌ করিয়া মরি ” শচীশ বলিল, “তুমি কী রকম সাধনা চালাইতে চাও আরএকটু স্পষ্ট করিয়া বলে, শুনি।” আমি বলিলাম, “প্রকৃতির স্রোতের ভিতর দিয়াই আমাদিগকে জীবনতরী বাহিয়া চলিতে হইবে । আমাদের সমস্যা এ নয় যে, স্রোতটাকে কী করিয়া বাদ দিব ; সমস্যা এই যে, তরী কী হইলে ডুবিবে না, চলিবে । সেইজন্যই হালের দরকার ।”