পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


b>8 চতুরঙ্গ কাছে ধরা পড়িল যে, তার স্বামীর ও তার বোনের পরস্পর আসক্তি জন্মিয়াছে । তখন তার বোনকে বিবাহ করিবার জন্ত সে স্বামীকে অনুরোধ করিল। খুব বেশি পীড়াপীড়ি করিতে হইল না। বিবাহ চুকিয়া গেলে পর নবীনের প্রথম স্ত্রী বিষ খাইয়া আত্মহত্যা করিয়াছে । তখন আর-কিছু করিবার ছিল না। আমরা ফিরিয়া আসিলাম । গুরুজির কাছে অনেক শিষ্য জুটিল, তারা তাকে কীর্তন শুনাইতে লাগিল ; তিনি কীর্তনে যোগ দিয়া নাচিতে লাগিলেন । প্রথম রাত্রে তখন চাদ উঠিয়াছে। ছাদের যে কোণটার দিকে একটা চালতা গাছ ঝুকিয়া পড়িয়াছে সেইখানটার ছায়াআলোর সংগমে দামিনী চুপ করিয়া বসিয়া ছিল। শচীশ তার পিছন দিকের ঢাকা বারান্দার উপরে আস্তে আস্তে পায়চারি করিতেছে । আমার ডায়ারি লেখা রোগ, ঘরের মধ্যে একলা বসিয়া লিখিতেছি । সেদিন কোকিলের আর ঘুম ছিল না। দক্ষিনে হাওয়ায় গাছের পাতাগুলো যেন কথা বলিয়া উঠিতে চায়, আর তার উপরে চাদের আলো ঝিলমিল করিয়া ওঠে । হঠাৎ এক সময়ে শচীশের কী মনে হইল, সে দামিনীর পিছনে আসিয়া দাড়াইল । দামিনী চমকিয়া মাথায় কাপড় দিয়া একেবারে উঠিয়া দাড়াইয়া চলিয়া যাইবার উপক্রম করিল। শচীশ ডাকিল, “দামিনী ।” দামিনী থমকিয়া দাড়াইল । জোড়হাত করিয়া কহিল,