পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


36 চতুরঙ্গ কাছে পাইলাম সে গৃহিণী হইল না, সে মায়া হইল না, সে সত্য রহিল । সে শেষ পর্যন্ত দামিনী । কার সাধ্য তাকে ছায়া বলে । দামিনীকে যদি আমি কেবলমাত্র ঘরের গৃহিণী করিয়াই জানিতাম তবে অনেক কথা লিখিতাম না । তাকে আমি সেই সম্বন্ধের চেয়ে বড়ো করিয়া এবং সত্য করিয়া জানিয়াছি বলিয়াই সব কথা খোলসা করিয়া লিখিতে পারিলাম, লোকে যা বলে বলুক। মায়ার সংসারে মানুষ যেমন করিয়া দিন কাটায় তেমনি করিয়া দামিনীকে লইয়া যদি আমি পুরামাত্রায় ঘরকন্না করিতে পারিতাম তবে তেল মাখিয়া, স্নান করিয়া, আহারান্তে পান চিবাইয়া নিশ্চিন্ত থাকিতাম ; তবে দামিনীর মৃত্যুর পরে নিশ্বাস ছাড়িয়া বলিতাম সংসারোহয়মতীব বিচিত্রঃ— এবং সংসারের বৈচিত্র্য আবার একবার পরীক্ষা করিয়া দেখিবার জন্য কোনো একজন পিসি বা মাসিব অনুরোধ শিরোধার্য করিয়া লইতাম, কিন্তু পুরাতন জুতাজোড়াটার মধ্যে পা যেমন ঢোকে তেমন অতি সহজে আমি আমার সংসারের মধ্যে প্রবেশ করি নাই । গোড়া হইতেই সুখের প্রত্যাশা ছাড়িয়াছিলাম । না, সে কথা ঠিক নয়— মুখের প্রত্যাশা ছাড়িব এতবড়ো অমানুষ আমি নই, সুখ নিশ্চয়ই আশা করিতাম, কিন্তু সুখ দাবি করিবার অধিকার আমি রাখি নাই । কেন রাখি নাই । তার কারণ, আমিই দামিনীকে বিবাহ করিতে রাজি করাইয়াছিলাম । কোনো রাঙা চেলির ঘোমটার নীচে শাহান রাগিণীর তানে তো আমাদের শুভদৃষ্টি হয় নাই।