পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Q8 § চতুরঙ্গ দামিনী হাত জোড় করিয়া বলিল, “তুমি আমার গুরু । আমি যত পাপিষ্ঠ হই, আমাকে সেবা করিবার অধিকার দিয়ে৷ p" २ যাই বল, আমি শচীশের এই সাধনার ব্যাকুলত বুঝিতে পারি না। একদিন তো এই জিনিসটাকে হাসিয়া উড়াইয়া দিয়াছি ; এখন, আর যাই হোক, হাসি বন্ধ হইয়া গেছে । আলেয়ার আলো নয়, এ-যে আগুন । শচীশের মধ্যে ইহার দাহটা যখন দেখিলাম তখন ইহাকে লইয়া জ্যাঠামশায়ের চেলাগিরি করিতে আর সাহস হইল না। কোন ভূতের বিশ্বাসে ইহার আদি এবং কোন অস্তুতের বিশ্বাসে ইহার অন্ত, তাহা লইয়া হার্বট্‌ স্পেন্সরের সঙ্গে মোকাবিলা করিয়া কী হইবে— স্পষ্ট দেখিতেছি, শচীশ জ্বলিতেছে, তার জীবনটা এক দিক হইতে আর-এক দিক পর্যন্ত রাঙা হইয়া উঠিল । Wh এতদিন সে নাচিয়া গাহিয়া, কাদিয়া, গুরুর সেবা করিয়া, . দিন রাত অস্থির ছিল— সে একরকম ছিল ভালো । মনের সমস্ত চেষ্টা প্রত্যেক মুহূর্তে ফুকিয়া দিয়া একেবারে সে নিজেকে দেউলে করিয়া দিত। এখন স্থির হইয়া বসিয়াছে, মনটাকে আর চাপিয়া রাখিবার জো নাই । আর ভাবসম্ভোগে তলাইয়া যাওয়া নয়, এখন উপলব্ধিতে প্রতিষ্ঠিত হইবার জন্য ভিতরে ভিতরে এমন লড়াই চলিতেছে যে তার মুখ দেখিলে ভয় হয় ।