পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীবিলাস 36t আমি একদিন আর থাকিতে পারিলাম না, বলিলাম, “দেখো শচীশ, আমার বোধ হয় তোমার একজন কোনো গুরুর দরকার, যার উপরে ভর করিয়া তোমার সাধনা সহজ হইবে।” শচীশ বিরক্ত হইয়া বলিয়া উঠিল, “চুপ করে বিস্ত্রী, চুপ করো– সহজকে কিসের দরকার। ফাকিই সহজ, সত্য झन्जेिन ।” আমি ভয়ে ভয়ে বলিলাম, “সত্যকে পাইবার জন্তই তো পথ দেখাইবার—* শচীশ অধীর হইয়া বলিল, “ওগো, এ তোমার ভূগোলবিবরণের সত্য নয়— আমার অন্তর্যামী কেবল আমার পথ দিয়াই আনাগোনা করেন, গুরুর পথ গুরুর আঙিনাতেই যাওয়ার 어 ” এই এক শচীশের মুখ দিয়া কতবার যে কত উলটা কথাই শোনা গেল ! আমি শ্রীবিলাস, জ্যাঠামশায়ের চেলা বটে, কিন্তু তাকে গুরু বলিলে তিনি আমাকে চেলাকাঠ লইয়া মারিতে আসিতেন — সেই আমাকে দিয়া শচীশ গুরুর পা টিপাইয়া লইল, আবার দুদিন না যাইতেই সেই আমাকেই এই বক্তৃত । আমার হাসিতে সাহস হইল না, গম্ভীর হইয়া রহিলাম । 敏 শচীশ বলিল, “আজ আমি স্পষ্ট বুঝিয়াছি, ‘স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মে ভয়াবহ: কথাটার অর্থ কী। আর-সব জিনিস পরের হাত হইতে লওয়া যায়, কিন্তু ধর্ম যদি নিজের না হয় তবে তাহা মারে, বাচায় না। আমার ভগবান অন্তের হাতের