পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐবিলাস ?ዓ গেল। সূর্য মাক-আকাশে উঠিল, তার পরে সূর্য পশ্চিমের দিকে হেলিল, শচীশের দেখা নাই। দামিনী অভুক্ত থাকিয়া অপেক্ষা করিল, শেষে আর থাকিতে পারিল না। খাবারের থালা লইয়া হাটুজল ভাঙিয়া সে ও পারে গিয়া উপস্থিত। চারি দিক ধুধু করিতেছে ; জনপ্রাণীর চিহ্ন নাই। রেজ যেমন নিষ্ঠুর বালির ঢেউগুলাও তেমনি। তারা যেন শূন্ততার পাহারাওয়ালা, গুড়ি মারিয়া সব বসিয়া আছে। যেখানে কোনো ডাকের কোনো সাড়া, কোনো প্রশ্নের কোনো জবাব নাই, এমন একটা সীমানাহারা ফ্যাকাশে সাদার মাঝখানে দাড়াইয়া দামিনীর বুক দমিয়া গেল। এখানে যেন সব মুছিয়া গিয়া একেবারে গোড়ার সেই শুকনো সাদায় গিয়া পৌছিয়াছে। পায়ের তলায় কেবল পড়িয়া আছে একটা "না", তার না আছে শব্দ, না আছে গতি ; তাহাতে না আছে রক্তের লাল, না আছে গাছপালার সবুজ, না আছে আকাশের নীল, না আছে মাটির গেরুয়া । যেন একটা মড়ার মাথার প্রকাও ওষ্ঠইন হাসি, যেন দয়াহীন তপ্ত আকাশের কাছে বিপুল একটা শুষ্ক জিহবা মস্ত একটা তৃষ্ণার দরখাস্ত মেলিয়া ধরিয়াছে। কোন দিকে যাইবে ভাবিতেছে এমন সময় হঠাৎ বালির উপরে পায়ের দাগ চোখে পড়িল। সেই দাগ ধরিয়া চলিতে চলিতে যেখানে গিয়া সে পৌছিল সেখানে একটা জলা । তার ধারে ধারে ভিজা মাটির উপরে অসংখ্য পাখির পদচিহ্ন । সেইখানে বালির পাড়ির ছায়ায় শচীশ বসিয়া । সামনের জলটি একেবারে নীলে নীল, ধারে ধারে চঞ্চল কাদাখোচা লেজ ।