পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক আসন্ন প্রতীক্ষাপূর্ণ সেই তৰ ভাগ্রত বাসন, অগাধ প্রাণের তলে সেই তব অজানা বোন, অনাগত মহ-ভবিষ্যং লাগি, হৃদয়ে আমার যুগান্তর-স্মৃতিসম উদিত হতেছে বারবার । আমারো চিত্তের মাঝে তেমনি অজ্ঞাত ব্যথাভরে, তেমনি অচেনা প্রত্যাশায়, অলক্ষ্য সুদূর তরে উঠিছে মর্মর স্বর। মানব-হৃদয়-সিন্ধুতলে যেন নব মহাদেশ স্থজন হতেছে পলে পলে, আপনি সে নাহি জানে। শুধু অধ্য অল্পভব তারি ব্যাকুল করেছে তারে, মনে তার দিয়েছে সঞ্চারি' আকারপ্রকারহীন তৃপ্তিহীন এক মহা আশা প্রমাণের অগোচর, প্রত্যক্ষের বাহিরেতে বাস । তর্ক তারে পরিহাসে, মম ভারে সত্য বলি’ জানে, সহস্র ব্যাঘাত মাঝে তবুও সে সন্দেহ ন মানে, জননী যেমন জানে জঠরের গোপন শিশুরে প্রাণে যবে স্নেহ জাগে, স্তনে যবে দুগ্ধ উঠে পুরে’। প্রাণ ভর ভাষাহর দিশাহারা সেই অাশা নিয়ে চেয়ে আছি তোমাপানে ; তুমি, সিন্ধু, প্রকাণ্ড হাসিয়ে টানিয়া নিতেছ যেন মহাবেগে কী নাড়ীর টানে আমার এ মম খানি তোমার তরঙ্গমাঝখানে কোলের শিশুর মতো । হে জলধি বুঝিবে কি তুমি আমার মানব-ভাষা। জানো কি তোমার ধরাভূমি পীড়ায় পীড়িত আজি ফিরিতেছে এ-পাশ ও-পাশ ; চক্ষে বহে অশ্রধারা, ঘন ঘন বহে উষ্ণশ্বাস, নাহি জানে কী যে চায়, নাহি জানে কিসে ঘুচে তৃষা, আপনার মনোমাঝে আপনি সে হারায়েছে দিশা