পাতা:জয়তু নেতাজী.djvu/২৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরিশিষ্ট २8€t রাজনৈতিক বিক্ষোভের কালে তিনি জনগণকে বাধ্য এবং তদানীন্তন নেতৃগণের বিরুদ্ধতা নিবারণ করিবার জন্ত, ব্রিটিশ রাজশক্তির সহিত সংগ্রামে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন—সেই সংগ্রাম কেমন তাহ আমরা দেখিয়াছি। তথাপি প্রথম দশৰৎসর তিনি ঐক্সপ সংগ্রামের সুফল প্রত্যাশা করিয়াছিলেন, এবং সেই নীতিও ত্যাগ করেন নাই। কিন্তু শেষে যখন বুঝিতে পারিলেন, ঐ সংগ্রাম বৃথা—ব্রিটিশ তাহার সদতিসদ্ধি বুঝিল না ; এবং যখন দেখিলেন, আর একদিকে র্তাহার সিদ্ধিলাভ হইয়াছে, অর্থাৎ জনগণ তাঙ্কণকে মহাত্মারূপে বরণ করিয়াছে— রাজনীতি অপেক্ষা ধর্থনীতিই তাহদের প্রাণ-মন হরণ করিয়াছে, তখন তিনি তাহার হৃদিস্থিত হৃষিকেশকে, সেই Voice of God-কেই একান্ত করিয়া আশ্রয় করিলেন । ব্রিটিশের সহিত যুদ্ধ নয়, ভারতবাসী জনগণেরই উদ্ধারসাধন নয়,– পৃথিবীতে এক নবধৰ্ম্মের প্রচার ও প্রতিষ্ঠাই উহার ভগবৎ-নির্দিষ্ট কৰ্গ হইয়া দাডাইল । তাছার দৃষ্টি ভারতের গণ্ডি অতিক্রম করিয়া পৃথিবীর চতুষ্প্রান্তে প্রসারিত হইল— তিনি ভারতবাসীর সেই রাজনৈতিক সংকট, দারুণ দারিদ্র্য ও দুর্গতি প্রভৃতির প্রতিকার-চিস্তাকে এমন একটি আধ্যাত্মিক উচ্চ আদর্শে মণ্ডিত করিয়া লইলেন ( এই আদর্শ পুৰ্ব্ব হইতেই ছিল ) ষে, অতঃপর যাহা কিছু করিতে লাগিলেন, তাহাতে আশু দুৰ্গতি-নিবারণের কোন সম্ভাবনাই রহিল না, বরং শেষে সেই দুৰ্গতি অতি ভীষণ আকার ধারণ করিল ; কিন্তু তাহাতেই তাহার ধৰ্ম্মমস্ত্রের গৌরব বুদ্ধি পাইল—তাহ এক সাৰ্ব্বভৌমিক মানব-প্রেমের দাবিতে ভারতকে ছাড়াইয়া বিশ্বের শুশ্রুষা ও শ্রদ্ধার ষোগ্য হইতে চাহিল। ভারতকে ছাড়াইয়াই তাহা হইবে—কারণ, গান্ধী ইহা নিশ্চয়ই চিস্তা করিয়াছিলেন, তাহার ঐ ধৰ্ম্ম এই অধঃপতিত, দুৰ্ব্বল, নিজীব ভারত পালন করিতে পরিবে না ;