তাহাও কিঞ্চিৎ বলা আবশ্যক। মনুস্মৃতি হইতে যে সকল বচন উদ্ধৃত করা হইল তাহা শুনিয়া সকলেই অনুভব করিতেছেন যে ইহার অপেক্ষা সামাজিক অত্যাচার হইতে পারে না। ইতিহাসে মানব-সমাজের গতিবিধি যাঁহারা লক্ষ্য করিয়াছেন, তাঁহারা জানেন যে সামাজিক অত্যাচার যখন একেবারে অসহ্য হইয়া পড়ে; সেই দুর্ব্বহ ভারে নরনারীর প্রাণ যখন পিষিয়া যাইতেথাকে, তখন সেই দারূণ সামাজিক ব্যাধির মধ্য হইতেই তাহার ঔষধ দেখা দেয়। অবশেষে পদদলিত মানব-প্রকৃতির প্রতিহিংসা প্রবৃত্তি প্রবল হইয়া উঠে; ঘোরতর সামাজিক বিপ্লব উপস্থিত হয়। এই সকল সময়ে সচরাচর দেখা যায়, এক এক জন অপ্রতিম প্রতিভাসম্পন্ন মহাপুরুষ অভ্যুত্থিত হন; শত শত লোকে গোপনে যে অশ্রুবর্ষণ করিতেছিল তাহা ইহাঁরা দর্শন করেন; শত সহস্র হৃদয়ে যে ক্রোধাগ্নি প্রধুমিত হইতেছিল তাহা ইহাঁদের হৃদয়ে প্রচণ্ড দাবানলের আকার ধারণ করে, শত সহস্র অন্তরে যে বাসনা জাগিতেছিল, তাহা ইহাঁদের প্রাণে ঘনীভূত হয়। ইহাঁরা নিগৃহীত পদদলিত প্রপীড়িক জাতি সকলের প্রতিভূ ও মুখ-স্বরূপ হইয়া সিংহগর্জ্জনে জগৎকে কম্পিত করিতে আরম্ভ করেন; জগতের সমবেত শক্তিসকলের প্রতি ভ্রুক্ষেপও না করিয়া সত্যের ও ন্যায়ের বিজয় নিশান উড্ডীন করিয়া দেন; এবং বজ্র-দৃঢ় মুষ্টিতে অত্যাচারীর সিংহাসনের পায়া ধরিয়া ভূমিতে লুণ্ঠিত করিয়া চূর্ণ
পাতা:জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৪১
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জাতিভেদ।
৩৯