পাতা:জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৪৪

দারােগার দপ্তর, ২০২ সংখ্যা।


হাস্য করিতে দেখিয়া রমণীকে আমারই আশ্রিতা বলিয়া মনে করিয়াছিলেন।

 আরও কিছুক্ষণ পরে তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন, “পূর্ব্বে কোন প্রকার চিকিৎসা হইয়াছিল কি?”

 আ। আজ্ঞে হাঁ, তবে কোন ডাক্তার দেখেন নাই। জোড়াবাগানেই একজন বৃদ্ধ আছেন, তিনি ঐ প্রকার দুই একটা রোগের চিকিৎসা করেন। আমি তাঁহাকেই একবার দেখাইয়া ছিলাম।

 ডা। তিনি কি ঔষধ দিয়াছিলেন?

 আমি ঈষৎ হাসিয়া বলিলাম, “কি ঔষধ জানি না। কাগজে কি লিখিয়া দিয়াছিলেন, তাহাও জানি না। কিন্তু যখন ঔষধটী কিনিতে যাই, তখন একজন সেই কাগজখানি পড়িয়া বলিয়াছিল, তাহাতে “আসে নি” নামে কি বিষ আছে। বিষের নাম শুনিয়া আমি আর সে ঔষধ ক্রয় করি নাই।

 আমার কথা শুনিয়া ডাক্তার বাবু হাসিয়া উঠিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি বিষ? আসে নি? না যায় নি?”

 আমি যেন অত্যন্ত অপ্রতিভ হইলাম। লজ্জার হাসি হাসিয়া বলিলাম, “আমরা সামান্য লোক, লেখাপড়া শিক্ষা করি নাই। আমাদের মুখ দিয়া কি সকল কথা ঠিক বাহির হয়। আমরা কি সকল কথা উচ্চারণ করিতে পারি? আপনি একজন বিখ্যাত ডাক্তার, নিশ্চয়ই আমার কথা বুঝিতে পারিয়াছেন। ঐ নামে সত্যই কি কোন বিষ আছে?”

 “আছে বই কি! কিন্তু তাহার নাম আর্সেনিক, আসেনি নয়, বাঙ্গালায় উহাকে সেঁকো বিষ বলে।”