পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩২

ঝাঁশির রাণী।

থাকিত। এইরূপ মহাসমারোহে শিঙ্গা প্রভৃতি নিনাদিত হইত—ভল্লদার, চোপদার প্রভৃতি হাঁক দিতে দিতে চলিত। রাণীঠাকুরাণীর সোয়ারী কেল্লার বাহির হইবামাত্র কেল্লার বুরুজ হইতে নহবৎ বাজিতে আরম্ভ হইত এবং ফিরিয়া আসা পর্যন্ত বাজিতে থাকিত। মন্দিরের নহবৎখানা হইতেও এই সময়ে নহবৎ বাজিত। যখন রাণী অশ্বপৃষ্ঠে যাইতেন, তখন তাঁহার সঙ্গে দাসীজন ও আশ্রিতবর্গ যাইত না। কেবল, ঘোড়শোয়ার ও পাঠান পদাতিক সঙ্গে থাকিত। শ্রীমহালক্ষ্মী ঝুঁশি-রাজ্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী—এই হেতু, তাঁহার সেবায় অনেক টাকা ব্যয় হইত। মঙ্গল দীপরক্ষণ, পূজার্চনা, মহানৈবেদ্য, নহবৎ বাদ্য, গায়ক, নর্তকী ও ধর্ম্মশালা প্রভৃতি বন্দবস্ত সমস্তই ছিল।

 রাণীঠাকুরাণীর আশ্রিত-মণ্ডলীর উপর প্রভূত দয়া ছিল। যাহাতে তাহাদিগের ভাল খাওয়া-পরা হয়, তাহারা সর্ব্বপ্রকারে সুখে থাকে, সেই বিষয়ে তাহার বিশেষ দৃষ্টি ছিল। তিনি সর্বপ্রকার গুণের মর্যাদা বুঝিতেন, এই জন্য তিনি গুণী লোকেরও প্রিয় ছিলেন। বড় বড় শাস্ত্রী,বিদ্বান্ ব্যক্তি, বৈদিক ও যাজ্ঞিক তাহার নিকট থাকিত। ঝুঁশির পুস্তক সংগ্রহও অতীব মূল্যবান্ ছিল। উত্তম পৌরাণিক, গান-বাদন-পটু সঙ্গীতশাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তি, কুশল কারীগর ইত্যাদি অনেক প্রকারের গুণী লোক তাঁহার আশ্রয়ে থাকিত। এবং তাহার খ্যাতি শুনিয়া দুর-দুরান্তর প্রদেশ হইতে কীর্ত্তনকার, গায়ক, শাস্ত্রী প্রভৃতি তাহার দরবারে আসিয়া উপস্থিত হইত।

 অশবপরীক্ষায় রাণীঠাকুরাণীর বিশেষ দক্ষতা ছিল। সেই সময়ে উত্তর হিন্দুস্থান-মধ্যে অশ্বপরীক্ষা-সম্বন্ধে তিন জনের খুব খ্যাতি ছিল। শ্রীমন্ত নানাসাহেব পেশোয়া; দ্বিতীয়, বাবাসাহেব আপটে গৃহেরীকর; এবং তৃতীয়, ঝাঁশির মহারাণী লক্ষ্মীবাই। ইনিই অশ্বপরীক্ষায় সকলের অগ্রগণ্য ছিলেন। তাহার অশ্বপরীক্ষার অনেক গল্প প্রচলিত আছে।