পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৭২

ঝাঁশির রাণী ।

গোলন্দাজেরা তোপ হইতে গোলাবর্ষণ করিতে লাগিল। ইংরাজেরা। হটিতে লাগিল। ইহা দেখিয়া রাণীর অশ্বারোহী সৈন্যগণ তাহাদিগের উপর ধাবমান হইল। রাণীঠাকুরাণীও মহা আবেশের সহিত যুদ্ধ করিতে লাগিলেন—রণাঙ্গনমধ্যে বিদ্যুল্লতার ন্যায় ইতস্ততঃ ধাবমান হইয়া শত্রু- সংহার করিতে লাগিলেন। এইরূপ তিন দিন ধরিয়া যুদ্ধ চলিল। অব- শেষে ইংরাজেরা শত্রুপক্ষের দুই তিনটা তোপ বলপূর্ব্বক অধিকার করায় পেশোয়ার সৈন্যগণ হতাশ হইয়া পড়িল—এদিকে আর একদল ইংরাজ সৈন্য রাণীর সৈন্যকে আক্রমণ করায়, রাণীর সৈন্য পরাভূত হইয়া পলায়ন এক্ষণে, রাণী, দুই তিনজন দাসী ও দুই এক জন বিশ্বাসী। সর্দার সমভিব্যাহারে শত্রুর হস্ত হইতে কোন প্রকারে এড়াইয়া, সবেগে। ঘোড়া ছুটাইয়া শক্রব্যুহ ভেদ করিয়া বাহির হইবার চেষ্টা করিলেন। ইংরাজ সওয়ারেরা তাহাকে আক্রমণ করিল—তিনি সবেগে ঘোড়া ছুটাইয়া বাহির হইয়া পড়িলেন—ইংরাজ সওয়ারেরা তাহার অনুসরণ করিতে লাগিল। ইতিমধ্যে তাহার দাসী মুদ্রা হঠাৎ চীৎকার করিয়া উঠিল। ‘রাণীঠাকরুণ! মলুম মলুম! এই শব্দ রাণীর কর্ণগোচর হইবামাত্র রাণী ফিরিয়া আসিয়া মুদ্রার হত্যাকারী ইংরাজ-যোদ্ধাকে অসির আঘাতে যমপুরীতে পাঠাইয়া আবার সবেগে ঘোড়া ছুটাইয়া চলিলেন। সম্মুখে একটা ক্ষুদ্র জল-প্রবাহ দেখিয়া ঘোড়া থমকিয়া দাড়াইল। রাণীর প্রিয় ঘোড় যুদ্ধে আহত হওয়ায় তিনি সিন্ধিয়ার অশ্বশাল হইতে এই ঘোড়াটি বাছিয়া লইয়াছিলেন। তিনি ঘোড়াকে খালের উপর দিয়া লইয়া যাইবার বিধিমতে চেষ্টা করিলেন—কিন্তু ঘোড়া আর কিছুতেই অগ্রসর হইল॥ ইতিমধ্যে যে ইংরাজ সওয়ার হার অনুসরণ করিতেছিল, সে সেইখানে আসিয়া পৌছিল। তাহার উপর আক্রমণ করিতে আসিতেছে দেখিয়া তিনি তলবার উত্তোলন করিয়া আত্মরক্ষা করিতে প্রবৃত্ত হইলেন—ঐরূপ কিছু কাল অসিযুদ্ধ চলিতে লাগিল—অবশেষে ইংরাজ