পাতা:তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা (ত্রয়োদশ কল্প প্রথম খণ্ড).pdf/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

פאס\צ বন্ধু ছিলেন ; হিন্দু-রমণীদিগের জন্য তিনি যাহা করিয়া গিয়াছেন, অন্য কে ততটা করিতে , পারিয়াছে ? অাজ কত অনাথ৷ হিন্দুবিধবা, হয়তো রামমোহন রায়ের নামও জানেন না, কিন্তু তাহারই রোপিত মহান বৃক্ষের ফল উপভোগ করিতেছেন ; কত হিন্দুবিধবা র্তাহারই কল্যাণে সহমরণ হইতে রক্ষা প্রাপ্ত হইয়া ধৰ্ম্মানুষ্ঠানের দ্বারা আপনাদিগের জীবন সার্থক করিয়া সংসারের সুখশান্তি পরিবৰ্দ্ধিত করিতেছেন ! রামমোহন রায়ের ন্যায় একজন মহাত্মা পুরুষ যে সতীদাহ নিবারণ করিবার জন্য প্রাণপণ পরিশ্রম করিবেন তাহা আশচর্য্য নহে। কিন্তু বাস্তুবিক যাহার তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা আত্মা উদার, তাহার নানা ক্ষুদ্র কথায়, ' ক্ষুদ্র কার্য্যে উদারতা ও মহত্ত্ব প্রকাশ পাইয়া থাকে। রামমোহন রায়ের সহিত । সতীদাহের পক্ষপাতীগণ তর্ক করিবার | se कल्ल, १ छ ।" μww. "Π" η পত্নী, কালিদাসের পত্নী প্রভৃতি যাহাকে যাহাকে বিদ্যাভ্যাস করাইয়াছিলেন, তাহারা সর্বশাস্ত্রের পারগরূপে বিখ্যাত। আছে । বিশেষতঃ বৃহদারণ্যক উপনিষদে ব্যক্তই প্রমাণ অাছে যে, অত্যন্ত দুরুহ ব্রহ্মজ্ঞান তাহা যাজ্ঞবল্ক্য আপন স্ত্রী মৈত্রেয়ীকে উপদেশ করিয়াছেন, মৈত্রেয়ী ও তাহার গ্রহণ পূর্বক কৃতাৰ্থ হয়েন ।” দ্বিতীয় বিষয়ে বলিলেন যে, “যে দেশের পুরুষ মৃত্যুর নাম শুনিলে মৃতপ্রায় হয়, তথাকার স্ত্রীলোক অন্তঃকরণের স্থৈৰ্য্য দ্বারা স্বামীর উদেশে অগ্নি প্রবেশ করিতে উদ্যত হয়, ইহা প্রত্যক্ষ দেখেন, তথাচ কহেন, যে তাহাদের অন্তঃকরণের স্থৈৰ্য্য নাই ।” তৃতীয় বিষয়ে বলিলেন যে গণনা করিলে দেখা যাইবে যে “প্রতারিত স্ত্রীর ংখ্যা দশগুণ অধিক হইবেক ; তবে পুরুষেরা প্রায় লেখা পড়াতে পারগ” এই কালে সতীদাহ রাখিবার যে সকল যুক্তি | জন্য কোন স্ত্রীলোক কদাচিৎ অপরাধ প্রদর্শন করিয়াছেন, তাহাতে র্তাহাদিগের করিলে পুরুষেরা প্রচার করিয়া বেড়ান, নিতান্ত সঙ্কীর্ণ আত্মার সঙ্কীর্ণতাই প্রকাশ | কিন্তু “পুরুষে স্ত্রীলোককে প্রতারণা কপাইয়াছে ; কিন্তু রামমোহন রায় তাহা- রিলে তাহ দোষের মধ্যে গণনা করেন দিগের বিরুদ্ধে লিখিতে গিয়া, স্ত্রীজাতির না।” “স্ত্রীলোকের এই এক দোষ আমরা প্রতি যেরূপ উদারতা প্রকাশ করিয়াছেন, তাহাতে র্তাহার মহত্ত্ব আরও দীপ্তিমান হইয়াছে । সতীদাহের পক্ষপাতীদিগের সতীদাহ রক্ষাপক্ষে এই যুক্তি প্রদর্শিত হইয়াছিল যে স্ত্রীলোকগণ ( ) স্বভাবত অল্পবুদ্ধি, (২) অস্থিরান্তঃকরণ (৩) বিশ্বাসের অপাত্র, (৪) সামুরাগ এবং (৫) ধৰ্ম্মজ্ঞান শূন্য। রামমোহন রায় এক একটী বিষয় ধরিয়া উত্তর দিলেন । তিনি প্রথম বিষয়ে বলিলেন যে “স্ত্রীলোকের বুদ্ধির পরীক্ষা কোন কালে লইয়াছেন যে, অনায়াসেই তাহাদিগকে অল্পবুদ্ধি কহেন ? * * বরঞ্চ লীলাবতী, ভানুমতী, কর্ণাট রাজার স্বীকার করি যে, আপনাদের ন্যায় অন্যকে (অর্থাৎ পুরুষকে) সরল জ্ঞান করিয়া হঠাৎ বিশ্বাস করে, যাহার দ্বারা অনেকেই ক্লেশ পায় এ পর্য্যন্ত যে কেহ কেহ প্রতারিত হইয়া অগ্নিতে দগ্ধ হয়।” চতুর্থ বিষয়ে বলিলেন যে অধিকতর সানুরাগ কে, “তাহ উভয়ের বিবাহ গণনাতেই ব্যক্ত আছে, অর্থাৎ এক এক পুরুষের প্রায় দুই তিন দশ বরঞ্চ অধিক পত্নী দেখিতেছি ; আর স্ত্রীলোকের এক পতি, সে ব্যক্তি মরিলে কেহ তাবৎ মুখ পরিত্যাগ করিয়া সঙ্গে মরিতে বাসন করে, কেহ বা যাবজ্জীবন অতি কষ্ট যে ব্রহ্মচৰ্য্য