পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জাভা-যাত্রীর পত্র যুদ্ধদীক্ষ তেমনি কৃষ্ণের কাছ থেকে। বিশ্বামিত্র স্বয়ং লড়াই করেন নি, কিন্তু লড়াইয়ের প্রেরণা তার কাছ থেকে ; কৃষ্ণও স্বয়ং লড়াই করেন নি, কিন্তু কুরুক্ষেত্রযুদ্ধের প্রবর্তন করেছিলেন তিনি ; ভগবদগীতাতেই এই যুদ্ধের সত্য, এই যুদ্ধের ধর্ম, ঘোষিত হয়েছে— সেই ধর্মের সঙ্গে কৃষ্ণ একাত্মক, যে কৃষ্ণ কৃষ্ণার সখা, অপমানকালে কৃষ্ণ র্যাকে স্মরণ করেছিলেন বলে তার লজ্জা রক্ষা হয়েছিল, যে কৃষ্ণের সম্মাননার জন্যই পাণ্ডবদের রাজসূয়যজ্ঞ। রাম দীর্ঘকাল সীতাকে নিয়ে যে বনে ভ্রমণ করেছিলেন সে ছিল অনার্যদের বন, আর কৃষ্ণাকে নিয়ে পাণ্ডবেরা ফিরেছিলেন যে বনে সে হচ্ছে ব্রাহ্মণ ঋষিদের বন । পাণ্ডবদের সাহচর্যে এই বনে কৃষ্ণার প্রবেশ ঘটেছিল। সেখানে কৃষ্ণ র্তার অক্ষয় অন্নপাত্র থেকে অতিথিদের অন্নদান করেছিলেন । ভারতবর্ষে একটা দ্বন্দ্ব ছিল অরণ্যের সঙ্গে কৃষিক্ষেত্রের, আর-একটা দ্বন্দ্ব বেদের ধর্মের সঙ্গে কৃষ্ণের ধর্মের । লঙ্কা ছিল অনার্যশক্তির পুরী, সেইখানে আর্যের হল জয় ; কুরুক্ষেত্র ছিল কৃষ্ণবিরোধী কৌরবের ক্ষেত্র, সেইখানে কৃষ্ণভক্ত পাণ্ডব জয়ী হলেন । সব ইতিহাসেই বাইরের দিকে অন্ন নিয়ে যুদ্ধ, আর ভিতরের দিকে তত্ত্ব নিয়ে যুদ্ধ। প্রজা বেড়ে যায়, তখন খাদ্য নিয়ে স্থান নিয়ে টানাটানি পড়ে, তখন নব নব ক্ষেত্রে কৃষিকে প্রসারিত করতে হয় । চিত্তের প্রসার বেড়ে যায়, তখন যারা সংকীর্ণ প্রথাকে অঁাকড়ে থাকে তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধে যারা সত্যকে প্রশস্ত ও গভীর ভাবে গ্রহণ করতে চায়। এক সময়ে ভারতবর্ষে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ প্রবল হয়েছিল ; এক পক্ষ বেদমন্ত্রকেই ব্ৰহ্ম বলতেন, অন্য পক্ষ ব্ৰহ্মকে পরমাত্মা বলে জেনেছিলেন । বুদ্ধদেব যখন তার ধর্মপ্রচার শুরু করেন তার পূর্বেই ব্রাহ্মণে ক্ষত্রিয়ে মতের দ্বন্দ্ব র্তার পথ অনেকটা পরিষ্কার করে দিয়েছে। \う8