পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নবম পত্র আছে । এখানে কালসংক্ষেপ করবার কোনো দরকার নেই। এখানে যা-কিছু অাছে তা চিরদিনের ; যেমন একালের তেমনি সেকালের । ঋতুগুলি যেমন চলেছে নানা রঙের ফুল ফোটাতে ফোটাতে, নানা রসের ফল ফলাতে ফলাতে, এখানকার মানুষ বংশপরম্পরায় তেমনি চলেছে নানা রূপে বর্ণে গীতে নৃত্যে অনুষ্ঠানের ধারা বহন করে । রেলগাড়ি এখানে নেই, কিন্তু আধুনিক কালের ভবঘুরে যারা এখানে আসে তাদের জন্তে আছে মোটরগাড়ি । অতি অল্পকালের মধ্যেই তাদের দেখাশুনো ভোগ-করা শেষ করা চাই । তারা অঁাটকালের মানুষ এসে পড়েছে অপর্যাপ্ত-কালের দেশে । এখানকার অরণ্য পর্বত লোকালয়ের মাঝখান দিয়ে ধুলে উড়িয়ে চলেছি আর কেবলই মনে হচ্ছে, এখানে পায়ে হেঁটে চলা উচিত। যেখানে পথের দুই ধারে ইমারত সেখানে মোটরের সঙ্গে সঙ্গে দুই চক্ষুকে দৌড় করালে খুব বেশি লোকসান হয় না ; কিন্তু পথের দু ধারে যেখানে রূপের মেলা সেখানকার নিমন্ত্রণ সারতে গেলে গরজের মোটরটাকে গারাজেই রেখে আসতে হয় । মনে নেই কি, শিকার করতে তুষান্ত যখন রথ ছুটিয়েছিলেন তখন তার বেগ কত ; এই হচ্ছে যাকে বলে প্রোগ্রেস, লক্ষ্যভেদ করবার জন্তে তাড়াহুড়ো । কিন্তু, তপোবনের সামনে এসে তাকে রথ ফেলে নামতে হল, লক্ষ্যসাধনের লোভে নয়, তৃপ্তিসাধনের আশায় । সিদ্ধির পথে চলা দৌড়ে, সুন্দরের পথে চলা ধীরে । আধুনিক কালে সিদ্ধির লোভ প্রকাণ্ড, প্রবল ; তাই আধুনিক কালের বাহনের বেগ কেবলই বেড়ে যাচ্ছে । যা-কিছু গভীরভাবে নেবার যোগ্য, দৃষ্টি তাকে গ্রহণ না ক’রে স্পর্শ করেই চলে যায়। এখন হ্যামলেটের অভিনয় অসম্ভব হল, হ্যামলেটের সিনেমার হল জিত। 8&