পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


So কল্যাণীয়াসু মীরা, যেখানে বসে লিখছি এ একটা ডাকবাঙলা, পাহাড়ের উপরে । সকালবেলা শীতের বাতাস দিচ্ছে। আকাশে মেঘগুলো দল বেঁধে আনাগোনা করছে, সূর্যকে একবার দিচ্ছে ঢাকা, একবার দিচ্ছে খুলে। পাহাড় বললে যে ছবি মনে জাগে এ একেবারেই সেরকম নয়। শৈলশিখরশ্রেণী কোথাও দেখা যাচ্ছে না— বারান্দ থেকে অনতিদূরেই সামনে ঢালু উপত্যক নেমে গিয়েছে, তলায় একটি ক্ষীণ জলের ধারা একে বেঁকে চলেছে ; সামনে অন্ত পারের পাড়ি অর্ধচন্দ্রের মতো, তার উপরে নারকেলবন আকাশের গায়ে সার বেঁধে দাড়িয়ে । উপর থেকে নীচে পর্যন্ত থাকে থাকে শস্তের খেত। পাহাড়ের বুক বেয়ে একটা ভাঙাচোরা পথ পরপারের গ্রামের থেকে জল পর্যন্ত নেমে গেছে। জলধারার কাছেই একটা উৎস। এই উৎসকে এ দেশের লোকে পবিত্র বলে জানে ; সমস্ত দিন দেখি মেয়েরা স্নান করে, জল তুলে নিয়ে যায়। এরা বলে, এই জলে স্বান করলে সর্ব পাপ মোচন হয়। বিশেষ বিশেষ পার্বণ আছে যখন বিস্তর লোক এখানে পুণ্যস্নান করতে আসে। এই জায়গাটার নাম ‘তীৰ্ত আম্পুল । তীর্ত অর্থাৎ তীর্থ, আম্পূল মানে উৎস— উৎসতীর্থ। এই উৎস সম্বন্ধে একটি গল্প আছে। বহুকাল পূর্বে এক রাজার এক সুন্দরী মেয়ে ছিল । সেই মেয়েটি রাজার এক পারিষদকে ভালোবেসেছিল। পারিষদের মনেও যে ভালোবাসা ছিল না তা নয়, কিন্তু রাজকন্যাকে বিয়ে করবার যোগ্য তার জাতিমৰ্যাদা নয় জেনে রাজার সম্মানের প্রতি লক্ষ করে রাজকন্যার ভালোবাসা (t ૨