পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দশম পত্র কর্তব্যবোধে প্রত্যাখ্যান করে। রাজকন্তা রাগ করে তার পানীয় দ্রব্যে বিষ মিশিয়ে দেয়। যুবক একটুখানি পান করেই ব্যাপারখানা বুঝতে পারে, কিন্তু পাছে রাজকন্যার নামে অপবাদ অাসে তাই পালিয়ে এই জায়গাকার বনে এসে গোপনে মরবার জন্তে প্রস্তুত হয়। দেবতারা দয়া করে এই পুণ্য-উৎসের জল খাইয়ে তাকে বাচিয়ে দেন । হিন্দু ভাবের ও রীতির সঙ্গে এদের জীবন কিরকম জড়িয়ে গেছে ক্ষণে ক্ষণে তার পরিচয় পেয়ে বিস্ময় বোধ হয়। অথচ হিন্দুধর্ম এখানে কোথাও অমিশ্র ভাবে নেই ; এখানকার লোকের প্রকৃতির সঙ্গে মিলে গিয়ে সে একটা বিশেষ রূপ ধরেছে ; তার ভঙ্গীট হিন্দু, অঙ্গটা এদের। প্রথম দিন এসেই এক জায়গায় কোন-এক রাজার অস্ত্যেষ্টিসৎকার দেখতে গিয়েছিলুম ! সাজসজ্জাআয়োজনের উপকরণ আমাদের সঙ্গে মেলে না ; উৎসবের ভাবটা ঠিক আমাদের শ্রাদ্ধের ভাব নয় ; সমারোহের বাহা দৃশ্যটা ভারতবর্ষের কোনো-কিছুর অনুরূপ নয় ; তবুও এর রকমটা আমাদের মতোই ; মাচার উপরে এখানকার চুড়া-বাধা ব্রাহ্মণের ঘণ্টা নেড়ে ধূপ-ধুনো জালিয়ে হাতের আঙুলে মুদ্রার ভঙ্গী করে বিড়বিড় শব্দে মন্ত্র পড়ে যুাচ্ছে। আবৃত্তিতে ও অনুষ্ঠানে কিছুমাত্র স্বলন হলেই সমস্ত অশুদ্ধ ও ব্যর্থ হয়ে যায় । ব্রাহ্মণের গলায় পৈতে নেই। জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, এরা ‘গায়ত্রী’ শব্দটা জানে কিন্তু মন্ত্রটা ঠিক জানে না। কেউ-বা কিছু কিছু টুকরো জানে। মনে হয়, এক সময়ে এর সর্বাঙ্গীণ হিন্দুধর্ম পেয়েছিল, তার দেবদেবী রীতিনীতি উৎসব-অনুষ্ঠান পুরাণস্থতি সমস্তই ছিল। তার পরে মূলের সঙ্গে যোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, ভারতবর্ষ চলে গেল দূরে— হিন্দুর সমুদ্রযাত্রা হল নিষিদ্ধ, হিন্দু আপন গণ্ডীর মধ্যে নিজেকে কষে বাধলে, ●"