পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

পাতাগুলো পাণ্ডুবৰ্ণ হয়ে আসে। এক-একসময় অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে, মনে মনে ভাবে, এ মানুষটা চিঠির মতো চিঠি লিখতে পারে না কেন। উমি অনেক কাল কনভেণ্ট পড়েছে। আর কিছু না হোক ইংরেজিতে ওর বিদ্যে পাকা। সে-কথা। নীরদের জানা ছিল। সেইজন্যেই ইংরেজি লিখে নীরদ ওকে অভিভূত করবে এই ছিল তার পণ। বাংলায় চিঠি লিখলে বিপদ বাচিত কিন্তু নিজের সম্বন্ধে বেচারা জানে না যে, সে ইংরেজি জানে না। ভারি ভারি শব্দ জুটিয়ে এনে, পুথিগত দীৰ্ঘপ্ৰস্থ বচন যোজনা ক’রে ওর বাক্যগুলোকে করে তুলত বস্তাবোবাই গোরুর গাড়ির মতো। উমির হাসি আসত, কিন্তু হাসতে সে লজা পেত, নিজেকে তিরস্কার ক’রে বলত বাঙালীর ইংরেজিতে ক্ৰটি হোলে তা নিয়ে দোষ ধরা॥ সুবিশ। দেশে থাকতে মোকাবিলায় যখন নীরদ ক্ষণে ক্ষণে সদুপদেশ দিয়েছে তখন ওর বুকুম-সকমে সেগুলো গভীর হয়ে উঠেছে গেীরবে। যতটা কানে শোনা যেত তার চেয়ে অান্দাজে তার ওজন হোত বেশি। লম্বা চিঠিতে আনন্দাজের জায়গা থাকে না।