বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দুর্নীতির পথে - বিনয়কৃষ্ণ সেন.pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৮
দুর্নীতির পথে

শারীরিক শক্তির ক্ষয় হইলে সর্ব্বপ্রকার ব্যধির সম্ভাবনা কিরূপ অধিক তাহা সুবিদিত।”

 এই আলোচনার সার কথা সংক্ষেপে এবং নিশ্চিতভাবে ইহা বলা যাইতে পারে, মনুষ্যজীবনে পুরুষের পক্ষে যৌনক্রিয়া এবং স্ত্রীলোকের পক্ষে সন্তানপ্রসব মুখ্যত ক্ষয়কারী (মৃত্যুর দিকে পদক্ষেপ)।

 অপরিমিত ইন্দ্রিয়সেবার ফল যে শারীরিক স্বাস্থ্যের পক্ষে অনিষ্টকর, সে বিষয়ে দীর্ঘ একটি অধ্যায় লেখা যাইতে পারে। পূর্ণসংযমী এবং অনেকাংশে সংযমী মানবগণ স্বভাবতই দীর্ঘজীবন লাভ করিয়া থাকে। তাহাদের পুরুষত্ব ও জীবনীশক্তি অব্যাহত থাকে এবং তাহারা সহজে রোগাক্রান্ত হয় না। শ্রুতিকটু হইলেও তাহার একটি প্রমাণ এই যে, পুরুষের অনেক রোগে নিস্তেজ দেহে কৃত্রিম উপায়ে বীর্য্য প্রবেশ করাইয়া রোগ দূর করা হয়।

 এই অধ্যায়ের সিদ্ধান্তগুলি মানিয়া লইতে পাঠকের মনে একটু খটকা লাগিতে পারে। বহু সন্তানের জনক হইয়াও বৃদ্ধবয়স পর্য্যন্ত সুস্থদেহে জীবিত রহিয়াছে এরূপ লোককে কেহ কেহ নজীররূপে দেখাইবেন; বিবাহিতেরা অবিবাহিতদের অপেক্ষা বেশীদিন বাঁচে এইরূপ সিদ্ধান্তসূচক হিসাবপত্রের উল্লেখও কেহ কেহ করিবেন। কিন্তু যদি আমাদের মৃত্যু সম্বন্ধীয় ধারণা বিজ্ঞানসম্মত হয় তবে এই দুই যুক্তির কোনোটির মূল্য থাকে না। কারণ মৃত্যু এমন একটী ঘটনা নহে, যাহা কেবল জীবনের অন্তে ঘটিয়া থাকে; পরন্তু বৈজ্ঞানিকেরা দেখাইয়াছেন যে, মৃত্যু একটি প্রবহমান ঘটনাবিশেষ—ইহা জীবনের প্রথম হইতেই আরম্ভ হইয়া প্রতিক্ষণই জীবনের পাশে পাশে চলিতেছে। বৃদ্ধি অথবা সংস্কার এবং ধ্বংস অথবা ক্ষয়, যথাক্রমে জীবন ও মৃত্যুর শক্তিতে হইয়া থাকে। প্রাণীগণের শৈশবে ও যৌবনে জীবনশক্তি