পাতা:দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়.pdf/৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দেওয়ানা

 সে পত্রে লেখা ছিল—“স্নেহময়ী আনার! তোমার দাম্পত্যজীবন চিরসুখময় হউক,এই আমার কামনা। আমি মহিমাময় বিধাতার কাছে এই প্রার্থনাই করিতেছি। সম্রাট-পুত্র দারা শেকোর নূতন আদেশে, কালই সন্ধ্যার পূর্ব্বে আমাকে আগরা ত্যাগ করিতে হইবে। আজ সন্ধ্যার পর তোমার সহিত সাক্ষাৎ করিবার কথা ছিল,—কিন্তু বাদশাহের ভৃত্য আমি। সরকারের আদেশ লঙ্ঘন করার সাধ্য আমার নাই। এজন্য রাজ হুকুমে বাধ্য হইয়া সুদূর প্রবাসে চলিলাম।”

 রাজকুমার দারাশেফের আদেশ ছিল, “যত শীঘ্র পার আগরা ত্যাগ করিয়া আমার লাহোরের শিবিরে পৌঁছিবে।” মীর লতিফ্ ইচ্ছা করিলে আরও দুই চারি দিন বিলম্ব করিতে পারিত। কিন্তু সে তাহা করিল না। কেন না জড় প্রকৃতির সেই জ্বালাময় বিদ্রূপ বাণী তখনও সে ভুলে নাই।

 আর তাহার বিশ্বস্ত ভৃত্য, ঠিক সময়েই, আনারউন্নিসার নিকট তাহার পত্র থানি পৌঁছাইয়া দিল। বলা বাহুল্য, মীর লতিফের পত্রখানি আনারউন্নিসা জুমেলার কাছে পাইল। পত্রখানি পড়িয়া, তাহার মুখ শুকাইল। সে দেখিল, সে পত্রমধ্যে আগাগোড়া একটা অস্ফূট মর্ম্ম-বেদনা, অতি করুণ কাহিনী ফুটিয়া উঠিয়াছে। আনার মুখ তুলিয়া দেখিল জুমেলা সে কক্ষে নাই।

 সে মীর লতিফের আগমন প্রত্যাশায় উৎসুক চিত্তে অপেক্ষা করিতেছিল। আর তার পরিবর্ত্তে সে পাইল কিনা, তাহার স্বহস্ত লিখিত এক প্রাণহীন, করুণাহীন, সমবেদনা বিহীন, সেই পত্র।

৯৩