পাতা:দেবী চৌধুরানী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিনিই আসিতেছেন। তোমরা নীচে যাও " : । দিবা ও নিশি ছাদ হইতে নামিয়া কামরার ভিতর গেল। পালী ক্রমে বাহিয়া আসিয়া । বঞ্জরার গায়ে লাগিল। সেই পাঙ্গীতে—ব্রজেশ্বর। ব্রজেশ্বর, লাফাইয়া বজরায় উঠিয়া, পালী তফাতে বাধিয়া রাখিতে হুকুম দিলেন । পাসওয়ালা তাহাই করিল। - ব্ৰজেশ্বর নিকটে আসিলে, প্রফুল্ল উঠিয় দাড়াইয়া আনত মস্তকে তাঙ্গার পদধূলি গ্রহণ করিল। পরে উভয়ে বসিলে, ব্রজেশ্বর বলিল, “আজ টাকা আনিতে পারি নাই, দুই চারি দিনে দিতে পারিব বোধ হয়। ই চারি দিনের পরে কবে কোথায় তোমার সঙ্গে দেখা হইবে, সেট জানা চাই।” ও ছি! ছি! ব্রজেশ্বর! দশ বছরের পর প্রফুল্লের সঙ্গে এই কি কথা ! দেবী উত্তর করিল, “আমার সঙ্গে আর সাক্ষাৎ হক্টবে না—” বলিতে বলিতে দেবীর গলাটা বুজিয়া আসিল—দেবী একবার চোখ মুছিলু—“আমার সঙ্গে আর দেখা হবে না, কিন্তু আমার ঋণ শুধিবার অন্য উপায় আছে। যখন সুবিধা হইবে, ঐ টাকা গরীব দুঃখীকে বিলাইয়া দিবেন—তাহা হইলে আমি পাইব ।” ব্ৰজেশ্বর দেবীর হাত ধরিল। বলিল, “প্রফুল্ল ! তোমার টাকা—” ছাই টাকা! কথা.শেষ হইল না—মুখের কথা মুখে রহিল। যেমন ব্রজেশ্বর “প্ৰফুল্প বলিয়া ডাকিয়া হাত ধরিয়াছে, অমনি প্রফুল্লের দশ বছরের বাধা বাধ ভাঙ্গিয়া, চোখের জলের স্রোত ছুটিল। ব্রজেশ্বরের ছাই টাকার কথা সে স্রোতে কোথায় ভাসিয়া গেল। তেজস্বিনী দেবী রাণী ছেলেমানুষের মত বড় কান্নাটা কাদিল । ব্রজেশ্বর ততক্ষণ বড় বিপন্ন হইলেন। র্তার মনে মনে বোধ আছে যে, এ পাপীয়সী ডাকাইতি করিয়া খায়, এর জন্য এক ফোটাও চোখের জল ফেলা হবে না। কিন্তু চোখের জল, অত বিধি ব্যবস্থা অবগত নয়, তারা অনাহূত আসায় ব্রজেশ্বরের চোখ ভরিয়া গেল। ব্রজেশ্বর মনে করিলেন, হাত উঠাইয়া চোখ মুছিলেই ধরা পড়িব । কাজেই চোখ মোছা হইল না। চোখ যখন মোছা হইল না, তখন পুকুর ছাপাইল—গাল বাহিয়া ধারা চলিল—প্রফুল্লের হাতে পড়িল । . তখন বালির বাধটা ভাঙ্গিয়া গেল। ব্রজেশ্বর মনে করিয়া আসিয়াছিলেন যে, প্রফুল্লকে ডাকাইতি করার জন্য ভারী রকম তিরস্কার করিবেন, পাপীয়সী বলিবেন—আরও দুই চারিট