ধৰ্ম্ম কি ? ও ধাৰ্ম্মিক কে ? 9Wes সৎকৰ্ম্মশীল হন। লতাতে যেমন পুষ্প যথাসময়ে স্বাভাবিক ভাবে প্ৰফুটিত হইয়া থাকে তেমনি প্রকৃত ধাৰ্ম্মিকের চরিত্রে সদনুষ্ঠান সকল স্বভাবতঃ প্ৰফুটিত হয়। একটা সত্য আমাদিগকে সর্বদাই মনে রাখিতে হইবে প্রকৃত ধৰ্ম্মের গতি পরিধি হইতে কেন্দ্রের দিকে নহে; কিন্তু কেন্দ্ৰ হইতে পরিধির দিকে। যেমন বৃক্ষের মূল কৰ্ত্তন করিয়া কেবল শাখা প্ৰশাখাতে জলসেচন পূর্বক বৃক্ষকে জীবিত রাখা যায় না, সেইরূপ ঈশ্বরানুরাগের পথে না গিয়া লৌকিক নীতির অনুসরণ ও লৌকিক আচারের আচরণাদি দ্বারা ধৰ্ম্মকে লাভ করা যায় না । জাগ্ৰত ঈশ্বর-শ্ৰীতি হৃদয়ে বাস করিলে তাহা স্বভাবতঃ যেরূপে বাহিরের চরিত্ৰে প্ৰকাশিত হয়, তাহার নাম ধৰ্ম্মজীবন । এই ধৰ্ম্মজীবন আংশিক নহে ; কোনও কাল বিশেষে বা কাৰ্য্য বিশেষে বদ্ধ নহে, ইহা সমগ্র জীবন-ব্যাপী । ইহা অৰ্শনে বসনে শয়নে পরিব্যাপ্ত হইয়া থাকে। ইতিবৃত্তের এই এক গুঢ় রহস্য, যে সকল ধৰ্ম্ম-প্ৰবৰ্ত্তক মহাত্মার নাম অবগত আছি, যাহারা ধৰ্ম্ম সম্বন্ধে মানবকুলে মহাবিপ্লব ঘটাইয়াছেন, তাহার কেহই ধাৰ্ম্মিকের বেশ ধারণের জন্য বা ধাৰ্ম্মিকতার খ্যাতি লাভের জন্য ব্যগ্র ছিলেন না । তাহারা ধৰ্ম্মসাধন বলিয়া স্বতন্ত্র একটা কিছু করিতেন না, অথচ উঠিতে বসিতে শুইতে জাগিতে বিশুদ্ধ ধৰ্ম্ম প্রচারিত হইত। ধৰ্ম্ম যেন তঁহাদের নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে ছিল ; যেন চক্ষের দৃষ্টিতে ছিল ; যেন মুখের হস্যে ছিল, এইরূপ, ঈশ্বর-প্রীতির সর্বগ্ৰাসিতা ও স্বাভাবিকতাই ধৰ্ম্ম ।
পাতা:ধর্ম্মজীবন (প্রথম খণ্ড) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৭৫
অবয়ব