Ry ধৰ্ম্মজীবন ৷ স্বার্থনাশের উল্লেখ হয় না। যে সকল কাৰ্য্যে কিছু অসাধারণত্ব থাকে, তাহাই লোকচক্ষুকে আকৃষ্ট করে এবং জগতের ইতিবৃত্তে উল্লেখযোগ্য বলিয়া পরিগণিত হয়, কিন্তু এই সকল নীরব কৰ্ত্তব্যপরায়ণতার গুণেই মানব-সমাজ দণ্ডায়মান রহি”াছে । এই দায়িত্ব বোধ বা কৰ্তব্য-নিষ্ঠ। কেবল মানবেষ্ট দৃষ্ট হইয়া থাকে। ইতর প্রাণীতে এই দায়িত্ব-স্বজ্ঞানের কোন ও প্রমাণ প্ৰাপ্ত হওয়া যায় না। কুকুর প্রভৃতি গৃহপালিত পশুগণকে সময়ে সময়ে অতি যত্নপূর্বক স্বীয় স্বীয় প্রভুর দ্রব্যজাত , রক্ষা করিতে দেখা যায় বটে, কিন্তু মানবের অদ্ভুত দায়িত্ব-বোধের সহিত তাহার কিছুই তুলনা হয় না। এই দায়িত্ব বোধ মানবপ্রকৃতির এক গুঢ় রহস্য ; ইহার স্বরূপের বিষয়ে চিন্তা করিলে বিস্ময়সাগরে মগ্ন হইতে হয় । এই যে একদিকে অনুতাপের গভীরতা অপরদিকে আত্মপ্ৰসাদের উচ্চতা এবং এই যে দায়িত্ব বোধের আশ্চৰ্য শক্তি ইহা কেবল মানবেই সম্ভব এবং ইহাতে মানবকে একটী বিশেষবৃত্তি-সম্পন্ন বলিয়া প্ৰতিপন্ন করিতেছে। ইহাকে বিবেক বল, হিতাহিত জ্ঞান বল,-একই কি ; ; ইহা মানবের একটী বিশেষ ইন্দ্ৰিয় । ইহার ভিতরেই মানবের মনুষ্যত্ব ও মহত্ত্ব নিহিত । ইহার জন্যই ধৰ্ম্মজীবন মানবের পক্ষে সম্ভব হইয়াছে। বাহিরের ইন্দ্ৰিয় সকল যেমন এই রূপময় জগতের এক একদিক আমাদের নিকট অভিব্যক্তি করে, আত্মার ইন্দ্ৰিয় সকলও তেমনি সেই অরূপ সত্তার এক এক দিক অভিব্যক্ত করিয়া থাকে। এ জগৎ একেন্দ্ৰিয়বিশিষ্ট জীবের নিকটে যাহা,
পাতা:ধর্ম্মজীবন (প্রথম খণ্ড) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৩৪
অবয়ব