পাতা:নাম-সার - গিরিবালা দেবী.pdf/৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
[৪]

একটা অভিনব আবিষ্কারের মত মনে হইবে। আমার বিশ্বাস এইগুলিকে মুদ্রিত আকারে পাইয়া ভক্তসমাজ অতুল আনন্দ লাভ করিবেন। এইগুলির সাহিত্যিক মূল্যও আছে, সেজন্য বিদ্বৎসমাজেও এইগুলির সমাদর হইবে বলিয়া আমি বিশ্বাস করি।

 গিরিবালা দেবী স্কুলকলেজের শিক্ষালাভ না করিলেও আপন গৃহে একনিষ্ঠভাবে সারস্বতসাধনা করিয়া বিদুষী হইয়া উঠেন। তাঁহার সারস্বত সাধনার রূপ তিনি ভাগবত সাধনায় রূপান্তরিত করিয়াছিলেন। গানগুলিতে কেবল গভীর ভক্তি নয়, গভীর জ্ঞানেরও পরিচয় পাওয়া যায়।

 যে গভীর ভক্তি থাকিলে শ্যামা মার প্রতি অভিমান করা চলে, রামপ্রসাদের মতো লেখিকার রচনায় তাহা স্থলে স্থলে পরিস্ফূট হইয়াছে। যেমন−

মা! কে তোমাকে বলে ত্রিনয়নী?
প্রত্যক্ষেতে দেখি, তুমি গো একচোখী,
ভক্তে দিলি ফাঁকি ভবমোহিনী।
দয়াময়ী নাম দীনা প্রতি বাম
সদা অভিলাষ ধনবান ধাম।
তারা, তবপদে সহস্র প্রণাম,
নও বিশ্বমাতা, দস্যুজননী।

রামপ্রসাদের গানে আমরা পাই, অকপট গভীর ভক্তি থাকিলে তীর্থদর্শনের প্রয়োজন হয় না, আমাদের ঠাকুরও সেই কথা বলিতেন। লেখিকাও বলিয়াছেন−

মনেতে করেছি বন, বনেতে কি প্রয়োজন,
জনালয়েতে নির্জ্জন ডাকি শ্যামা ত্রিনয়না।
লোকদেখানো ভস্ম মেখে কি কার্য্য অরণ্যে থেকে,
মনেতে জঙ্গল রেখে ঘুচে কি ভবযাতনা।