পাতা:নাম-সার - গিরিবালা দেবী.pdf/৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

[ ৫ ]

ঊনবিংশ শতাব্দীতে বহু রাজা, মহারাজা, দেওয়ান ও বিষয়ী লোকেরাও শ্যামাসঙ্গীত রচনা করিতেন। বাংলার শাক্ত ধর্ম্মে ভোগর সঙ্গে যোগের সমন্বয় ঘটিয়াছিল। বিষয়ীরা বিষয় ভোগ করিতেন সত্য, কিন্তু দেববিগ্রহ প্রতিষ্ঠা, দেবমন্দির গঠন, দেবসেবার জন্য সম্পত্তির উৎসর্গ, দান খয়রাত, বারোমাসে তেরো পার্বণে দেবতার নামে উৎসব, সাধুসন্ন্যাসী গুণী জ্ঞানী পণ্ডিতদের প্রতিপালন ইত্যাদি তাঁহাদের বিষয়ভোগেরই অঙ্গীভূত ছিল।

 গিরিবালা দেবীরও বিষয়সম্পদ্ ছিল, তিনি তাহার রক্ষণাবেক্ষণ করিতেন—কিন্তু বিষয়ভোগের জন্য নয়, দেবসেবা ও দীনজন প্রতিপালনের জন্য। বিষয়সম্পত্তি সম্বন্ধে তাঁহার অভিজ্ঞতাকে তিনি ভজনসঙ্গীতে রূপ দিয়া গিয়াছেন—ইহাও রামপ্রসাদেরই অনুসৃতি। “বালা” লিখিয়াছেন—

হাজা মজা নাই তালুকে,
বাস করি যার মুলুকে।
সকল রাজার উপর রাজা তাঁর প্রজারা থাকে সুখে।
সে রাজারে রাখলে রাজী,
আপন হ’তে পায় লাখরাজি,
কর দিতে আর হয়না তারে, সে রাজার নাম যে লয় মুখে।
আপনি হয়ে সন্তোষ
প্রজাকে দেয়রে মৌরস
সে মেদি পাটার ধার ধারেনা বসে থাকে সে তাল ঠুকে।
কবে এসে এ’বালা’রে
তসিল করে তসিলদারে?
এমন রাজায় চিন্‌লে নারে এরূপ রাজ্যেতে থেকে।

বিষয়সম্পত্তি নাড়াচাড়া করিতে করিতে পার্থিব বিষয়ের অসারতা উপলব্ধি করিয়া তিনি যে আধ্যাত্মিক সম্পদের সন্ধান পাইয়াছিলেন এই গানে তাহার আভাস পাওয়া যায়।