পাতা:নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন.pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র

১৭

 এই কারাজীবন সম্বন্ধে সুভাষচন্দ্র নিজে একখানি পত্রে লিখিয়াছিলেন—

 “১৯২১ ও ১৯২২ সালে দেশবন্ধুর সহিত আট (?) মাস কাল কারাগারে কাটাইবার সৌভাগ্য আমার হইয়াছিল; তন্মধ্যে দুইমাস কাল আমরা পাশাপাশি সেলে প্রেসিডেন্সী জেলে ছিলাম এবং বাকী ছয় মাস কাল আরও কয়েকজন বন্ধুর সহিত আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের একটি বড় ঘরে ছিলাম। এই সময়ে তাঁহার (দেশবন্ধুর) সেবার ভার কতকটা আমার উপর ছিল। আলিপুর জেলে শেষ কয়েকমাস তাঁহার একবেলার রান্নাও আমাদিগকে করিতে হইত, গভর্ণমেন্টের কৃপায় আমি যে আট মাস কাল তাঁহার সেবা করিবার অধিকার ও সুযোগ পাইয়াছিলাম,—ইহা আমার পক্ষে পরম গৌরবের বিষয়।”  —দেশবন্ধু-স্মৃতি, পৃঃ ৫৪৯

 ১৯২২ খৃষ্টাব্দে সুভাষচন্দ্র কারাবাস হইতে মুক্তিলাভ করেন। তখন ভগবানের অলঙ্ঘ্য বিধানে ভীষণ বন্যায় উত্তরবঙ্গ ভাসিয়া গিয়াছে! অন্নহীন, বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন সহস্র সহস্র নরনারীর আর্ত্তনাদে আকাশ-বাতাস নিয়ত প্রতিধ্বনিত হইতেছে। ইহাতে স্বভাব-করুণ সুভাষচন্দ্রের প্রাণ কাঁদিয়া উঠিল। তিনি বন্যা-পীড়িতদের সাহায্যার্থ বদ্ধপরিকর হইলেন।

 তিনি স্বয়ং উত্তরবঙ্গে গমন করিয়া বন্যা-পীড়িতদের দুঃখ-দুর্দশা স্বচক্ষে দেখিয়া অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং বেঙ্গল রিলিফ-কমিটির সেক্রেটারীরূপে যেরূপ শৃঙ্খলা ও সুব্যবস্থায় বন্যা-পীড়িত নর-নারীর সেবার কার্য্য নির্ব্বাহ করেন, তাহাতে তাঁহার অসাধারণ কর্ম্মশক্তি ও গঠন-প্রতিভার সুস্পষ্ট পরিচয় প্রতিভাত হইয়া উঠিল।