পাতা:পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর জীবনচরিত.pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


a | भिवनाथ-औदनो। ব্ৰাহ্মসমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি-কেশবচন্দ্রের সন্মুখীন হইতে শিবনাথের সাহস হইত না, কিন্তু বিজয়বাবুদের বাসায় মধ্যে · মধ্যে যাইতেন। এক এক দিন বিজয়বাবুরা শিবনাথকে রাত্রে एङां ভবানীপুরে যাইতে দিতেন না, তাহদের বাসায় রাখিতেন, শিবনাথ অন্তরে ব্ৰাহ্ম ভাবাপন্ন হইলেও তঁহাদের সঙ্গে ভিন্ন জাতীয়া রাঁধুনীর হাতে থাইতে বড়ই ঘুণ বোধ করিতেন -এত বিস্ত্ৰ বোধ হইত। যে রাত্রে ভাল ঘুম হইত না। হরানন্দ ভট্টাচাৰ্য্যের শুনিতে আর বাকি থাকিল না যে সর্বনাশের সূত্রপাত হইয়াছে।--শিবনাথ ব্ৰাহ্ম সমাজে যাহঁতে আরম্ভ করিয়াছন । মনে করিলেন কলিকাতায় গিয়া পুত্রকে শাসন করিয়া এই সৰ্ব্বনাশের বীজ সমুলে উৎপাটন করিবেন। পুত্রকে আসিয়া বলিলেন, “শুনিতে পাই তুমি ব্ৰাহ্মসমাজে যাইতে আরম্ভ করিয়াছ আর ও-কৰ্ম্ম করিও না, ব্রাহ্ম সমাজে যাইতে পরিবে না”-পুত্ৰ বিনীতভাবে উত্তর দিলেন “বাবা আপনার আজ্ঞা অদ্যাবধি লঙ্ঘন করি নাই, আপনার সকল আজ্ঞা শুনিতে আজও প্ৰস্তুত আছি -কিন্তু আমার ধৰ্ম্মজীবনে হাত দিবেন না, আমি ব্ৰাহ্ম সমাজে না গিয়া পারিব না।”-হরানন্দ জীবনে পুত্রের মুখে এমন কথা শোনেন নাই, তিনি স্তম্ভিত হইয়া গেলেন, আর কোনো কথা বুলিলেন না ; নির্জনে অনেক চক্ষের জল ফেলিলেন। বিষন্নমুখে বাড়ী ফিরিয়া গেলেন। তঁহার মুখ দেখিয়া গোলোকমণি স্তম্ভিত হইয়া গেলেন-বলিলেন “তোমার মুখ কেন এমন ; শিবনাথ ভাল আছেত ?--তিনি গম্ভীর ভাবে উত্তর করিলেন “সে মরেছে।” জননী চীৎকার করিয়া কঁাদিয়া উঠিলেন, "প্রতিবেশীরা ছটিয়া আসিয়া বলিতে লাগিল, “কই শিবুৱ অনুখের কথা ত শুনি নাই”।