পাতা:পল্লী-সমাজ.djvu/১৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
পল্লী-সমাজ
১৮৬
 


কর্‌তে সাহায্য কর্‌বে না। আর নিলেও যে তুমি নিজের জন্যে নেবে না, সেও আমি জানি। কিন্তু, তা’ত নয়। দোষ কর্‌লে শাস্তি হয়। আমি যত অপরাধ করেচি, এটা তারই জরিমানা ব’লে কেন গ্রহণ কর না!” রমেশ ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিল,—“তোমার দ্বিতীয় অনুরোধ?” রমা কহিল,—“আমার যতীনকে আমি তোমার হাতে দিয়ে গেলাম। তাকে তোমার মত ক’রে মানুষ কোরো। বড় হ’য়ে সে যেন তোমার মতই হাসিমুখে স্বার্থত্যাগ কর্‌তে পারে।” রমেশের চিত্তের সমস্ত কঠোরতা বিগলিত হইয়া গেল। রমা আঁচল দিয়া চোখ মুছিয়া কহিল,—“এ আমার চোখে দেখে যাবার সময় হবে না; কিন্তু, আমি নিশ্চয় জানি, যতীনের দেহে তাঁর পূর্ব্বপুরুষের রক্ত আছে। ত্যাগ কর্‌বার যে শক্তি তাঁর অস্থিমজ্জায় মিশিয়ে আছে—শেখালে হয় ত একদিন যে তোমার মতই মাথা উঁচু ক’রে দাঁড়াবে।” রমেশ তৎক্ষণাৎ তাঁহার কোন উত্তর দিল না। জানালার বাহিরে জ্যোৎস্না-প্লাবিত আকাশের পানে চাহিয়া রহিল। তাঁহার মনের ভিতরটা এমন একটা ব্যথায় ভরিয়া উঠিতেছিল, যাহার সহিত কোনদিন তাঁহার পরিচয় ঘটে নাই। বহুক্ষণ নিঃশব্দে কাটার পরে, রমেশ মুখ ফিরাইয়া কহিল,—“দেখ, এ সকলের মধ্যে আর আমাকে টেনো না। আমি অনেক দুঃখ-কষ্টের পর, একটুখানি আলোর শিখা জ্বাল্‌তে পেরেচি;—তাই আমার কেবল ভয়, পাছে একটুতেই তা’ নিবে যায়।” রমা কহিল,—“আর ভয় নেই রমেশ দা’, তোমার