পাতা:প্রবাসী (ঊনত্রিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১ম সংখ্যা ] লোক সব ছড়াছড়ি করিয়া নানি বাইতে আরম্ভ করিল কুলির মজুরী এবং বখশিষ পাইবার জন্ত চেচামেচি জুড়িয়া দিল । ডেকযাত্রীরা ডাঙার লোকের সহিত কথাবার্তা চুকাইয়া, বিছানা মাদুর পাতিয়া নিজের নিজের সীমানা নির্দেশ করিয়া গুছাইয়া বসিতে আরম্ভ করিল। আর দেরি নাই । খালাসীর সমন্বরে চীৎকার করিয়া সিড়ি তুলিয়া ফেলিতে লাগিল। মনোরঞ্জন হাসিয়া ছেলেমেয়েদের লইয়া অদৃত হইয়া গেলেন। যাইবার আগে জয়ন্তী খুব ঘটা করিয়া রুমাল উড়াইয়া গেল, যদিও জাহাজ হইতে উত্তরে রুমাল উড়াইবার মত কেহ ছিল न1 ।। নিরঞ্জন বলিলেন, “চল এখন ভিতরে। নিজেদের সব ব্যবস্থা ঠিক করে নিতে হবে ত ? কি কি দরকার रुन ।” ইন্দু বলিল, “চল, কিন্তু ঘরটায় যা গরম ! এখানে বেশ হাওয়া। ঐ ত দেখ কত মেয়েমানুষ যাচ্ছে, বাঙালীও রয়েছে। এরা বেশ যাবে।” তাঙ্গার মেজদা হাসিয়া বলিলেন, “কেবিনে ইলেকটিক ফ্যান আছে, খুলে দিলেই বেশ হাওয়া পাবে। এখানে এত লোকের মাঝে দিনরাত তোমরা থাকতে পারবে না ।” কেবিনের ভিতর ঢুকিয়াই মায়া জিজ্ঞাসা করিল, “বাবা, স্নানের ঘর কোথায় ?” নিরঞ্জন বলিলেন, “চল দেখিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু দিনে পচিশ বার স্বান করে যেন অস্কখ বাধিয়ে বোসো না।” স্বানের ঘরে গিয়াও মায়ার বিস্ময়ের অন্ত থাকিল না। এ কি রকম ব্যাপার ? কোথায় কি করিতে হইবে বুঝিতে না পারিয়া সে হতবুদ্ধি হইয়া দাড়াইয়া রহিল। বাবা তাহাকে রাখিয়া ত দিব্য চলিয়া গেলেন । এখন তাহার ফিরিয়া যাইতেও যে ভয় করিতেছে ? বাহির হইয়া সে যদি হারাইয়া ষায় ? তাহার প্রায় চোখ ফাটিয়া জল বাহির হইয়া জাসিবার উপক্রম হইল। সৌভাগ্যক্রমে তখনি আর একটি যাত্ৰিনী আসিয়৷ -জুটিলেন। বাঙালী বটে, তবে মায়ার ষে শ্রেণীর বাঙালী মেয়ে দেখা অভ্যস্ত, ঠিক সেরকম নয়। রেশমের মোজা, মহামায়া সোনালী রংএর জুতা পর, তাহার গোড়ালীগুলা অসম্ভব ృషిరి উচু। পরণে সোনালী রংএরই শাড়ী, জাম, নাকে সোনার চশমা, গলায় একটা মুক্তার মালা । মায়া তাহার দিকে ষ্টা করিয়া চাহিয়া আছে দেপিয়া, তিনি বললেন, “কি খুকি, এখানে এমন করে দাড়িয়ে আছ কেন ?” বাংলা ভাষা শুনিয়া মায়ার একটু সাহস হইল। .স বলিল, “কি করে কল খুলব ?” মহিষ্ঠাটি একটু হাসিয়া, ভিতরে ঢুকিয় কল গোল, টব ভৰ্ত্তি কর, টবের জল ছাড়িয়া দেওয়া প্রভৃতি সব তাহাকে বুঝাইয়া দিলেন। মূীয়া জিজ্ঞাসা করিল, “আপনিও রেঙ্গুন ধাচ্ছেন ?” ভদ্রমহিলা বলিলেন “হ্য। ভোমার সঙ্গে যে ভদ্রলোক যাচ্ছেন, তাকে আমরা চিনি। উমি তোমার কে হন ?" মাখ বলিল, “আমার বাবা।” তাহার সঙ্গিনী একটু যেন বিস্মিত হুইয়া তাহfর দিকে তাকাইলেন । তাহার পর জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই প্রথম তোমরা যাচ্চ নাকি ? তোমার মা কোথায় ?” মায়ার দুই চোপ জলে ভরিয়া উঠিল । সে বলিল, “আমার মা আজ ক’দিন হল মারা গিয়েছেন । তাষ্ট বাবা আমাকে তার কাছে নিয়ে ধাচ্ছেন।” এমন সময় মায়ার সন্ধানে ইন্দুও আসিয়া উপস্থিত হইল । দেরি দেখিয়া নিরঞ্জন তাহাকে ও পাঠাইয়া দিয়াছিলেন । সে আসিয়া কিঞ্চিৎ অবাক হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কি রে, কাদছিল কেন ?” মায়। উত্তর দিবার আগেই সেই ভদ্রমহিল৷ বলিলেন, “আমি ওকে মায়ের কথা জিগগেষ করায় কাদছে। নিরঞ্জন বাবুকে আমরা চিনি। কিন্তু এ দুর্ঘটনার কথা ত শুনিনি ?” ইন্দু বলিল, “কোথা থেকে আর শুনবেন বলুন ? এই ক'দিন হল সবে। তা মেজদা ত চোগের দেখাও দেখলেন না। মারা যাবার পরে এসে পৌচেছেন।” দুজনে শীঘ্রই আলাপ জমিয়া গেল। মায়া ইত্যবসরে কোনমতে স্নান সারিয়া লইল । , বাহির হুইবার সময় ভদ্রমহিলা বলিলেন, “আমি এই