পাতা:প্রবাসী (ঊনত্রিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৮৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬ষ্ঠ সংখ্যা ] চাপা আগুন ԳԳչՏ নরনারীর জন্ত সাহায্য চাহিয়া করুণ আবেদনের সঙ্গীত চলিয়াছে। আন্তরিকতাভর গানের সহজ কথা এবং সহজ স্বরের মাঝে এতগুলি সমবেদনাভর কোমল প্রাণ যেন দুঃখপীড়িতের নিবেদনের ভাষা মূৰ্ত্ত করিয়া তুলিয়ছে। অকস্মাং শিবপদর চিত্ত উদভ্ৰান্ত হইয়া গেল। নিমেযে সে ফিরিয়া গেল বক্তবর্ণ পূৰ্ব্বেকার দিনগুলিতে, যখন, দেশমাতৃকার না দেশ সস্থানগুলির দুঃখের কাহিনীতে তার হৃদয় উদ্বেলিত হষ্টয়া উঠিত, ক্ষুধাতৃষ্ণ ভূলিয়া শ্রাম্বিক্লান্থিকে উপেক্ষা করিয়া এমনিভাবে পথে পথে গান গাড়িয়া সেপ দেশলাসীকে জানাষ্টয় দিত তাঙ্গাদেরক্ট ভাইবোন অন্নাভাবে বস্থাভাবে রোগের পীড়নে কেমন করিয়া মরিতেছে ! এমনিভাবে বাড়ী বাড়ী ঘুবিয়া সেও চাঁদ তুলিত, জলপাবারের পয়স বঁাচাইয়া দুভিক্ষ ফণ্ডে দান করি । খুচরা টাক নিঃশেষ কষ্টয়াছিল, দশটাকার নোটের শেষ সংগাটি লইয়। সে ঔষধ কিনিতে যাইতেছিল। নোটট বাষ্টির করিয়া নি:শঙ্কে ছেলেটির হাতে লিয়া দিল । ছেলেরা হঠাং গান বন্ধ করিয়া চেঁচাষ্টয় উঠিল, “বন্দেমাতরম্ !” সেক্ট শব্দে শিবপদর স্বপ্ন ভাঙ্গিয় গেল । অতীতের কল্পনাকুঞ্জের মধূস্বৰ্গ হইতে বৰ্ত্তমানের বাস্তব পুথিবীতে নামিয়া আসিল । ছেলেটির হাতের নোটটি পকেটে চলিয়া গেল দেগিয়া শিহরিয়া সে স্মরণ করিল সেদিন মাসের মাত্র কুড়ি তারিখ এবং এক্ট নোটট ছাড়া একটি আস্ত টাকা ও তার বাক্সে নাই !. বিদ্যুতের ঝলকের মত আরও কতকগুলি নিৰ্ম্মম সত্য এক মুহূৰ্ত্তে তার মনের ভিতর চমকাইয়া গেল। অন্নস্থ সস্তানের ঔষধ এবং পথা, মাসের বাকী দশদিনের চাল ভাল তেল কুন। — একটা খাত খুলিয়৷ ছেলেটি বলিল, “আপনার নামটি লিপে দিতে হবে অল্পগ্রহ করে।” শিবপদ বলিল, “নাম কেন ?” ছেলেটি বলিল, “দশ টাক চাদ দিলে নাম লিখে নেবার নিয়ম আছে।” শিবপদ একটা ঢোক গিলিল। বলিল, “দশ টাকা– S AAAAAA AAAA AAAAS A SAS SSAS SSAS SSAS SSAS SSAS SSAS SSAS SSAAAASA SAASAASAAAS দশ টাকা তো আমি দিই নি . এক টাকা”—ছেলেটি সবিস্ময়ে তার মুখের দিকে চাহিল। শিবপদ চোগে চোপে তাকাষ্টতে পারিল না, অরিক্স অবনত মুথে কোনো মতে উচ্চারণ করিল, “দুশ টক; দেবার মত অবস্থা আমার নয়, ভাই । এক টাকার বেশী দিতে পারব না ।" “ ও আচ্ছ," বলিয়। ছেলেট পকেট লাঠির করিয়। ন’ক্ট টাক। গুণিয়। শিবপদর হাতে দিল । আবার গান ধfরয় ছেলের অগ্রসর হইল । পাথরের মঠুর মত শিবপদ মিছিলটির দিকে চাহিয়া দরজার কাছে দাড়াইয়া রঙ্গিল । গান যতক্ষণ শোনা গেল শিবপদ স্থাতুর মত দ!ড়াইয়। হক্টঙ্কে টাক। রঙ্গিল । তারপর বা চার ভিতরে গিয়। বিছানায় শুষ্টয়া পড়িল । মাধী শঙ্কিত ইষ্টয়। ললিল, ঠাকুরপে ? শরীর ভাল নেই ?” "শুয়ে পড়লে মো শিবপদ কথ: কeিল না, চোগ পুঞ্জিয়। প৬িয়। রঙ্গিল : ভাঙ্গার শিয়রের কাছে বসিয়। কপালে হাত দিয় মাপী ডাকিল, “ঠাকুরপে। " শিবপদ চোখ হাসিলার চেষ্টা করিয়৷ বলিল, “জীবনটাকে এক এক সময় কি মনে হয় জান বৌদি ? মনে হয় হাস্থরের দাবীকে আগাগোড়া Hকি দিয়ে চলাই জীবনের সব চেয়ে বড় কথা !" ত্রিশ ধংসর বয়সে যার শ্রীস্থির অবধি নাই, জীবনের ভারে মৌলনেষ্ট যে তুষ্টয় পড়িয়াছে, তার মুপের মুর্তীল অবসাদ-ভর কথা ! মাধবীর চোপে জল আসিল । মেলিল । শিবপদ আবার বলিল, “বুঝলে বৌদি, এক এক সময় ইচ্ছ। করে পালাষ্ট ! সব ছেড়েছুড়ে ছুট দিষ্ট উৰ্দ্ধশ্বাসে, একেবারে সাঙ্গার-ফাহার কোথায় ৪ গিয়ে বালির ভেতর মৃগ গুঞ্জে চুপচাপ পড়ে থাকি।” জালাভর দীপ্তিতে শিবপদর চোগ জলিয়া উঠিল । নালিশ ! আগুন যেমন আকাশের শূন্যতার দিকে শিখ; ব। ড্ৰাষ্টয়া নালিশ জানায় তেমনি এক নালিশের ভাস! ফুটয় উঠিল তার দুষ্ট চোপে । মন্তরের যে আগুন ভারচাপা পড়িয়া গেল তার কি, মুক্তি নাই ?