পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


» २२ প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান তথাপি এই মন্‌স্বরের প্রকৃতির একটা ভাল দিক ছিল । তাহার পিতা ছিল পাহাড়িয়া জঙ্গলবাসী লুধা গাজি। সে শরীর বলে অত্যাচারপূর্বক পরস্ব লুণ্ঠন করিতে ও শরীরের ভীষণতায় একটা বন্য ব্যাঘ্র ছিল। কিন্তু মন্‌স্বরের মাতা ছিল পরম সুন্দরী, নবনীত কোমল এক বাঙ্গালী রমণী। লুধা গাজী তাহাকে জোর করিয়া ধরিয়া আনে এবং অত্যাচার করে, তাহার ফলে মনস্করের এই পুথিবীতে আবির্ভাব । অত্যাচারের ফলে তাহার মাত। তাহাকে প্রসব করিয়াই মৃত্যুমুখে পতিত হয়। মনস্কর পিতার মত দুৰ্দ্দান্ত পশু-প্রকতি ছিল। কিন্তু সেই প্রকৃতির এক কোণে তাহার ধৰ্ম্মভীরু, কোমল জননীর গুণের বীজ লুক্কায়িত ছিল । একটি পরম সুন্দরী, সদ্য বিবাহিত রমণীকে দেখিয়া মনস্তরের সত্যকার প্রেম হুইয়াছিল । মেয়েটি যখন দোলায় চড়িয় প্রথম শ্বশুর-বাড়ীতে যাইতেছিল, সেই সময় জঙ্গলের পথে মনস্থর তাহাকে ধরে । কবি রাত্রির জোছনার বর্ণনা করিয়াছেন মাত্র দুই পংক্তিতে। এই কবিত্ব বহু পণ্ডিত-কবির মধ্যেও খুব সুলভ নহে— “জ্যোৎস্ন-ভরা রাইভে রে, দোলা যায় চলি। মুঠ মুঠ যেন কেহ ছুড়ে বেল-ফুলের কলি ॥ দোলা যায়, যায়রে দোলা অষ্ট বেহারার কাধে। মা-বাপেরে মনেতে পড়ি বোঁ গুরি গুরি র্কাদে ॥ ঝি -ঝি পোকার ডাক শুনি কঁাপি ওঠে বুক। মা-বাপেরে মনেভে পড়ে, ছোট ভাইয়ের মুখ ॥ আগে পাছে বৈরাতি যায়, যায়রে ধীরে ধীরে । দখিন হাওয়া পাইয়। দোলার কাপড় ঘন ঘন উড়ে ॥ # ধবধবা জ্যোৎস্না পহর দিনের মত রাইত। ঝোপের কাছে খাপদি রৈছে মনসুর ডাকাইভ ॥”