পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গল সাহিত্যে মুসলমানের অবদান N & R তারে ছাড়িয়া দুলাল রইতে না পারিব। কতদিন পরে খসম নিশ্চয় আসিব ॥ আজ আইসে, কাল আইসে, এই না ভাবিয়া । মদিন সুন্দরী দিল কত রাইত গোয়াইয়া ॥ আজ বানায় তালের পিঠা, কাল বানায় খই। সিকাতে তুলিয়া রাখে গামছা বাধা দই। শালি ধানের চিড়া কত যতন করিয়া। হাড়িতে ভরিয়া রাখে, সিকাতে তুলিয়। ভাল ভাল মাছ আর মোরগের ছালন । আজ আইবে বলে রাখে খসমের করুন।” এই সরল চির-প্রত্যয়শীলা লক্ষ্মী মূৰ্ত্তিরা এখনও বাঙ্গালার ঘরে ঘরে বুকে পাষাণ বাধিয়া কত দুঃখ নীরবে সচিতেছেন, তাহাদের ধৈৰ্য্যের অস্ত নাই, ভালবাসার অন্ত নাই। হায় ! শিক্ষিত সম্প্রদায়, তোমরা ইহাদিগকে চিনিলে না! ঘরের-লক্ষ্মী পায়ে ঠেলিতেছ—বিলাতী চলচ্চিত্রের নাচুনীদের মোহে । মদিনার সরল হৃদয়ের বিশ্বাসের লৌহ-কপাট বাস্তব-সত্যের বজাঘাতে সেইদিন ভাঙ্গিল, যে-দিন মুরুজ—পিতাকে আনিতে গিয়া কাদিতে কাদিতে মায়ের কাজে ফিরিয়া আসিল । তখনকার দৃষ্ঠ হৃদয়বিদারক। মদিন গত জীবনের স্বামীসঙ্গ স্মরণ করিয়া বিলাপ করিতেছে— “মদিনা কঁশদয়ে আল্লা কি লিখেছ কপালে। বনের পংখী হইয়া যেমন উইড়া চলে গেলে। পরাণের পংখী আমার, পরাণ লইয়া গেলা । পাষাণে বান্ধিয়া দিল কেমনে রহিব একেলা ॥