পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান >し”。 দমন আর শিষ্টের পালন নীতির সমর্থক লোক আমাদের সমাজে বিরল হইয়া পড়িয়াছে। পৈত্রিক প্রাণটি লইয়। আমরা ঘরের কোণে যতই সরিয়া যাইতেছি, ততই কমলি নাহি ছোড়তা’—কমলি ঘেষিয়া ঘেষিয়া সেই প্রাণটি লইবার জন্য ধাওয়া করিতেছে। অগণিত এই গীতিকা শুধু প্রেম নহে - সমুদ্র-যাত্রার কত কথা, কত জলযুদ্ধ, কত দেশ-বিদেশে বাণিজ্যের কাহিনী, কত ত্যাগ-বীর, দান-বীর ও যুদ্ধ-বীরের প্রসঙ্গ এই সকল পল্লী-গাথায় খাটি বাঙ্গল ভাষায় এরূপ কবিত্বের ছন্দে লিখিত হইয়াছে যে, তাহা পড়িয়া মনে হয়, শিক্ষিত-সম্প্রদায় যে একটা ক্ষুদ্র-গণ্ডীর মধ্যে সস্থতাত্মক ও বিদেশী ভাবাপন্ন বাঙ্গলা লইয়া গৰ্ব্ব করেন, তাহা কি কবিত্বে, কি চরিত্রাঙ্কনে, কি ঘটনার বাহুল্যে ও বিচিত্রতায় এই বিরাট পল্লী-সাহিত্যের নিকট নগণ্য। আমরা পুরাণ ও কাব্য খ জিয়া কয়টিই-বা মঙ্গয়সী রমণী-চরিত্র পাইয়াছি ? গৌরী, সীতা, সাবিত্রী, দ্রৌপদী, দময়ন্তী, শকুন্তলা, কাদম্বরী প্রভৃতি সে কয়েকটি নারী-চরিত্রকে নখাগ্রে গণনা করা যায়। কিন্তু প্রাচীন বঙ্গ-সাহিত্যের এসম্বন্ধে সমৃদ্ধি অসাধারণ ; ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গীতিকার মধ্যে এক একটি অমর-চরিত্র ফুটিয়া উঠিয়াছে। তাহাদের ত্যাগ, তাহদের প্রেম, তাহাদের তপস্ত পৌরাণিক নারী-চরিত্র-অপেক্ষ। কোন অংশেই নুন নহে ; তাহাদের রূপ-গুণ একবার উপলব্ধি করিলে, তাহা চিরতরে.মনে মুদ্রিত হইয়া থাকিবে । মসলমান কবিরাও কেহ কেই বেহুলার চরিত্র অঙ্কন করিয়াছেন, এখনও তাহা প্রকাশিত হয় নাই । বাঙ্গালার বেহুল, বাঙ্গালার মদিনা, বাঙ্গালার নুরস্নেহ, আয়না, ভেলুয়া, সখিনা, ছুরৎ—বাঙ্গালার মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কাঞ্চনমালা, মালঞ্চমালা, কাজলরেখা প্রভৃতি বহু সংখ্যক আদর্শ রমণী বঙ্গ-সাহিত্যের কৌস্তুভ কোহিনূর । ইহাদের একটিকেও বাদ দেওয়া যায় না, ইহাদের প্রত্যেকটি হীরকের মূল্য বহন করে । এই রমণীর প্রত্যেকেই বাঙ্গালী, বাঙ্গালার বৈশিষ্ট্য লইয়া,