পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান ፃ » বিজয়’এ- যোগ-সম্বন্ধীয় কতকগুলি কথা আছে, গোরক্ষনাথ—গুরু মীন নাথকে যে একত্রিশটি প্রশ্ন করিয়াছিলেন, তাঙ্গতে যোগের অনেক গৃহ কথার ইঙ্গিত আছে, আমরা তদ্বারা বুঝিতে পারিয়াছি যে, নিম্নশ্রেণীর মুসলমানেরাও অজপা প্রভৃতি হঠযোগের পারিভাষিক শব্দের অর্থ জানিত । এই সমস্ত কঠিন প্রশ্ন সমাধানকালে তাহার। যে উচ্চ-চিন্তার পরিচয় দিয়াছে, তাহাও উল্লেখযোগ্য—“প্রদীপ নিৰ্ব্বাণ হইলে জ্যোতি কোথায় চলিয়া যায় ? শব্দ উচ্চারিত হওয়া মাত্র উহার ধ্বনি কোন মহাসমুদ্রে লীন হইয়া যায় ?” এইরূপ প্রশ্ন বঙ্গীয় কৃষকগণের মনে জাগিত. ইহা কম বিস্ময়ের বিষয় নহে। কৃষক জিজ্ঞাসা করিতেছে— “কোন খানেতে আছে আমার বিন ধানের খই। কোন খানেতে আছে আমার বিনা দুধের দই ॥ কোন খালেতে আছে আমার বিনা পাটের দড়ি। কোন খালেতে আছে আমার বিনা বাশের নড়ি ॥ আছমান যবে নাহি ছিল কোথা হিল চন্দ । পুষ্প যবে নাহি ছিল কোথা ছিল গন্ধ। বায়াল্প বাজার তিপ্লান্ন গলি, তার মধ্যে কোন জন বৈসা করে কেলি ॥” এই ভাবের গৃঢ় রহস্তপূর্ণ আধ্যাত্মিক চিন্তা যাহার প্রতিটি প্রশ্নের মধ্যে হঠযোগের প্রতিপাদ্য সমস্তা-সমাধান আছে, তাহা আর কোন দেশের কৃষক করিতে পারে? ‘বার বুরুজ” আর ‘তের কামানই বা কি এবং ‘বায়ান্ন বাজার’ ও ‘তেল্পান্ন গলি’ই বা কি—তাহ। হঠযোগীর তপস্তালব্ধ দেহ-তত্ত্বের জ্ঞান এবং এদেশের হিন্দু-মুসলমান চাষার পর্য্যস্ত তাহ জানিত। ইহাই বাঙ্গাল দেশের বিশেষত্ব এবং এই জন্তই বাঙ্গালী আমার নিকট শ্রদ্ধেয় এবং জনসাধারণ শুধু আমার অন্তরঙ্গ ও প্রিয় নহে, গৌরবের পাত্র।